খুলনায় খালেকের ৩১ দফা ইশতেহার
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩, ২২:০৬
খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে (কেসিসি) একটি উন্নত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক মহানগরী হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং গত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণ ভোটে জয়লাভের প্রত্যয় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় স্থানীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত এ নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো হলো- সিটি কর্পোরেশনকে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মেয়র প্রার্থী এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, প্রেসক্লাব, আইনজীবী সমিতি, বিএমএ, শিক্ষক, নারী, পাটকল শ্রমিক এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শ কমিটি গঠন, কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্তকরণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, খুলনা ওয়াসাকে পূর্ণাঙ্গরূপ দিতে সহায়তা প্রদান, কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন এবং খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের জন্য একটি আলাদা কবরস্থান তৈরি, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নগরীতে আরও আধুনিক বিপণীকেন্দ্র ও মার্কেট তৈরি এবং বিনিয়োগ উত্সাহিত করে নতুন আয়ের উত্স সৃষ্টি, পূর্ণাঙ্গ আইটি ভিলেজ গঠন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়াইফাই জোন’ ঘোষণা ও ইন্টারনেট ব্যবহারসহ বিনামূল্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, গুরুত্ব বিবেচনা করে নগরীর সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ন সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, মেয়র পদক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নসহ ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ তৈরি এবং ফুটবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্রবর্তন, সোলার পার্ক আধুনিকায়ন, পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মৃতির মিনার নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, নগরবাসীর যাতায়াত সুবিধার্থে টাউন সার্ভিস ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সুইমিংপুল স্থাপন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে আরো উদ্যোগ গ্রহণ, প্রস্তাবিত তিনটি থানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, খুলনা মহানগরীর সমপ্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সনদ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে কেসিসি’র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। এছাড়া ইশতেহারে নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স আর না বাড়ানোর ঘোষণাও দেয়া হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে গত পাঁচ বছরে আমার দেয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মহানগরীর রাস্তঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমার দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বল্প মেয়াদি প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয়েছে।
এছাড়া মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে। বিগত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে আমি খুলনা মহানগরীকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এসেছে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমি কেসিসির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাজোট সরকারের আমলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে এ যাবত্কালের মধ্যে সর্বাধিক ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ২৭৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে ২০১৬ সালে শেষ হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মেয়র হিসাবে গত পাঁচ বছরে আমি খুলনা মহানগরীতে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, তাতে বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার মানুষ তাকে দ্বিগুণ ভোটে নির্বাচিত করবে। সংবাদ সম্মেলনে বিগত সময়ে তার আচরণ ও ভুলত্রুটির জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ ও ক্ষমা চান।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তালুকদার আব্দুল খালেক গত পাঁচ বছরে খুলনার দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছেন, যা বিগত দিনে কেউ করতে পারেনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা এমপি, নূর আফরোজ আলী এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানপ্রমুখ।