মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম সমাদ্দার (৯৬)। শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ..... রাজেউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ মেয়ে, ৩ ছেলে রেখে গেছেন।
১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। ৬ দফা অন্দোলনসহ ৬৮, ৬৯ ও ৭০ এর গণআন্দোলনে তিনি অগ্রভাগে থেকে বলিষ্ট নেতৃত্ব দেন। এ কারণে তিনি গোপালগঞ্জে আপামর মানুষের কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করে।
৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে তিনি গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় চার নেতার সঙ্গে একই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে ছিলেন। ১৯৭২ সালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর তিনিই গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান হন। গোপালগঞ্জ মহকুমা রিলিফ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৭৫ এর আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শুনে শোক সইতে না পেরে তিনি খানিকটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
শুক্রবার সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ আনা হয় গোপালগঞ্জ শহরের পাওয়ার হাউজ রোডের নিজ বাস ভবনে। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় নেতার বাড়িতে গিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
তার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে। গভীর শোক প্রকাশ করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
আরও পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত
বাদ জুম্মা সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠে জানাযা শেষে গোপালগঞ্জ পৌর-কবরস্থানে মরহুমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। আগামী সোমবার বাদ আসর শহরের পাওয়ার হাউজ মসজিদে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইত্তেফাক/নূহু