পাহাড়ি ঢল-বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩, ২২:৩৮
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত ৩ দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিস্তাসহ রংপুর অঞ্চলের ধরলা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ফুল কুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের নদী অববাহিকা এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডালিয়া, ডিমলা ও জলঢাকার ৮টি ইউনিয়ন, রংপুরের গঙ্গাচড়ার ৮টি, কাউনিয়ার ৫টি এবং পীরগাছার ৪টি ইউনিয়ন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, আদিতমারী সদর, হাতিবান্দার ১৪টি, কুড়িগ্রামের উলিপুর, রাজারহাট, চিলমারীর ১৮টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটার ১০টি ইউনিয়ন, ধরলার নদী পরিবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, নাগেশ্বরীর ১৪টি ইউনিয়ন, ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলার বেশকটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার অনেক ঘরবাড়িতেও পানি উঠেছে। ৩ জেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী মিলে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ডালিয়া ব্যারেজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন মণ্ডল তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আরো ২/১ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এদিকে অবিরাম বর্ষণের ফলে রংপুর মহানগরীর কামাল কাছনা, শাহীপাড়া, শালবন মিস্ত্রিপাড়া, পালপাড়া, খটখটিয়া, মুলাটোলসহ প্রায় অর্ধশত পাড়া-মহল¬া ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার থেকে ভারতের গজলডোবার দোমহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল শনিবার পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে ডেঞ্জার ধরা হয় ৫২ দশমিক ৪০ মিটার। গজলডোবায় সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় হু হু করে পানি প্রবেশ করে তিস্তার বাংলাদেশ অংশে। পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর প্রায় ২৫টি উপজেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।