বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
মিজানুর রহমান, শিক্ষক
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
প্রশ্ন: নিচের ছকটি দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
প্রশ্ন: ক.সংবিধান কী ?
প্রশ্ন: খ.‘জনগণ সকল ক্ষমতার উত্স’ কথাটি বুঝিয়ে বলো ।
প্রশ্ন: গ. ওপরের ছকে ‘P’ ও ‘Q’ চিহ্নিত স্থানে কোন দুইটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ? তাদের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরো।
প্রশ্ন: ঘ. ছকে ‘O’ চিহ্নিত স্থানটি কী নির্দেশ করে ? নির্দেশিত বিষয়টি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর: ক. সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল।
উত্তর: খ. একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ সকল ক্ষমতার উত্স। সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে। জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে । এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করে। পৃথিবীর দেশে দেশে বর্তমানে এ ব্যবস্থায়ই সরকার গঠিত হচ্ছে । বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ সুতরাং জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স।
উত্তর: গ. পাশের ছকে P চিহ্নিত স্থানটি নির্দেশ করেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির একটি আর তা হলো গণতন্ত্র। আর Q চিহ্নিত স্থানটি নির্দেশ করেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির আরেকটি সেটি হলো সমাজতন্ত্র। গণতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রের মাঝে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে । ওপরের ছকের ‘P’ ও ‘Q ’ স্থান দুটির মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে তুলে ধরা হলো -
সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা । শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের একটি মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
আর গণতন্ত্র হলো যেখানে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা , মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকে । মানুষের মর্যাদার প্রতি গণতন্ত্রে শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের সব কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা । জাতি , বর্ণ , গোত্র , নারী- পুরুষ কোনো প্রকার ভেদাভেদ ছাড়াই রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যা নিরসনে অবদান রাখতে পারে।
উত্তর: ঘ. ছকে ‘O’ চিহ্নিত স্থানটি দ্বারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি। এ চারটি মূলনীতি হলো- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা । বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় এ চার মূলনীতি দ্বারা দেশ পরিচালিত হয় । এ চার মূলনীতি সর্ম্পকে নিচে আলোচনা করা হলো-
জাতীয়তাবাদ: একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। তাই সংবিধানে বলা হয়েছে , একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
সমাজতন্ত্র: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হলো এ মূলনীতির লক্ষ্য । শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের একটি মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গণতন্ত্র: রাষ্ট্রের সব কাজে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হলো গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি করার একটি প্রধান উদ্দেশ্য।
ধর্মনিরপেক্ষতা: রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং কেউ কারো ধর্মপালনে বাধা না দিতে পারে সেজন্যই ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।