জোড়া খুনের নেপথ্যে দেড় লাখ টাকা!
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩, ২২:৪১
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ফ্ল্যাটে দুই যুবককে খুনের নেপথ্যে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাত্র দেড় লাখ টাকার জন্যই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্তকারীরাও সে কথাই বলছেন। তবে শুধু এই টাকার বিষয়টি নয়, সঙ্গে নারী ও মাদকের বিষয়েও তদন্তে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর এই টাকার সঙ্গে যার সংশ্লিষ্টতা সেই মিলনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিলন নিহতদের ফ্ল্যাটেরই বাসিন্দা। বাড়ি বগুড়ায়। তাকে পেলেই এই হত্যা রহস্যের জট অনেকটা খুলে যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে আশাবাদী পুলিশ।
নিহত বাশারের চাচা মোস্তফা কামাল ফরিদ ঘটনার পর থেকেই বলছেন, দুবাই থেকে বাশারের ভগ্নিপতি ৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা তার ভাতিজার হিসাবে জমা আছে। সেখান থেকে দেড় লাখ টাকা তুলে বাড়িতে পাঠানোর কথা ছিল। তার ধারণা বাশার ঐ টাকা তুলে রুমে এনে রেখেছিল। পরে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের কেউ জেনে ঐ টাকা হাতিয়ে নিতে তার ভাতিজাকে খুন করেছে। এ ঘটনা দেখে ফেলায় রাজীবও খুনের শিকার হতে পারেন। গতকাল শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকার হিসাব পুলিশ নিতে পারেনি।
গত শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়া ফ্ল্যাটে খায়রুল বাশার ও রাজীব নামের দুই যুবককে হত্যা করা হয়। এর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, র্যাব ও সিআইডিসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করেছে। ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ফারুক, করিম ও গৃহকর্মী বকুলকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, পালিয়ে থাকা মিলনের সম্পর্কে ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা যে তথ্য দিয়েছে তাতে আপাতত মনে হচ্ছে টাকার জন্যই এই খুন। তবে মিলনকে না পাওয়া পর্যন্ত খুব বেশি এগুনো যাচ্ছে না। ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী বকুলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে বকুল রান্না শেষ করে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাশার, রাজীব ও মিলনকে রেখে যান। ঐ সময় পৃথক রুমে তিনজনই শোয়া অবস্থায় ছিলেন। তবে মিলনকে চিন্তিত মনে হয়েছে। মিলন তার কাছে তিনবার জানতে চান, তিনি আবার বাসায় আসবেন কি-না। প্রতিবারই তিনি ‘না’ বলেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার বাইরেও মাদক ও নারী সংক্রান্ত দুই ক্ল্যু এখন পুলিশের হাতে। তারা বলেন, নিহত বাশারের মুষ্টিবদ্ধ হাতে একটি ওড়নার অংশ বিশেষ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওড়নাটি কার, কেনইবা মৃত্যুর সময় তা আঁকড়ে ধরেছিলেন বাশার। এ বিষয়ে গৃহকর্মী বকুলকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে বকুল (২৮) স্বীকার করেছেন, নিহত রাজীবের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঐ সম্পর্কের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। ওড়নাটিও তার নয়।
এদিকে গত শুক্রবার বিকালে লাশ উদ্ধারের পর মধ্যরাতে নিহত বাশারের আরেক চাচা হাওলাদার মামুন শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করেননি। এই মামলায় গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার দেখায়নি পুলিশ।