নাজদা আলমদূর পরবাসে জনপ্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ১৯:৪৫
এবার দেশে এসেছিলেন সাভারের রানা ভবন ধসে আহত ও বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি তহবিল সংগ্রহ করেছেন। সেই তহবিলের অর্থ বিলাতে ঘুরে বেড়িয়েছেন সাভারের আশেপাশের গ্রাম, এনাম মেডিক্যাল কলেজসহ কয়েকটি হাসপাতাল। খোঁজ করেছেন প্রকৃত অসহায়দের। তবে এক্ষেত্রে তার প্রথম পছন্দ মা ও শিশুরা। কারণ হিসেবে নাজদা বলেন, একটি পরিবারের মাকে রক্ষা মানে পুরো পরিবারকে রক্ষা করা। মা’ই আগলে রাখেন পুরো পরিবার। এবারই প্রথম না, ২০০৫ সালে সখন সিডরে আক্রান্ত পুরো দেশ। বিপর্যস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। জীবনযাত্রার সাধারণ মান বিপন্ন। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন তিনি। নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। ফান্ডের সেই অর্থ সিডরে আক্রান্তদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে উড়ে এসেছেন। নিজে গিয়েছেন আক্রান্ত এলাকায়। সরাসরি কথা বলেছেন আক্রান্তদের সঙ্গে। বিলিয়েছেন নিজের সংগ্রহ করা অর্থসহ সহযোগী অন্যান্য উপকরণ। দেশ যখনই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত, তখনই বার বার মা ও মাটির টানে ছুটে আসেন এ মহীয়সী নারী নাজদা আলম।
স্বদেশপ্রেমী এ নারী শোনান তার ইতিবৃত্তান্ত। একটি শিক্ষিত পরিবারে টাঙ্গাইল শহরে জন্ম। জেলা শহরেই পড়াশোনার প্রাথমিক পাঠ চুকানো। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে শেষ করেন পড়াশোনার বাকি অধ্যায়। ১৯৮২ সালে স্বামীর সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি জমান উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর স্থায়ী আবাস গড়েন বোস্টনে। সোস্যাল ওয়ার্কার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। সে দেশের নাগরিকত্ব লাভের পর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেন ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্য হিসেবে। এরপর সক্রিয় হন। তার একনিষ্ঠতা, কর্ম ও পরিশ্রমপ্রিয়তা অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে পরিচিত করে তোলে। পর্যায়ক্রমে বাঘা বাঘা ডেমোক্র্যাট নেতাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনিই ডেমোক্র্যাট পার্টির ইলেকট্রোরাল ভোটার নির্বাচিত হন। এখন দায়িত্ব পালন করছেন ডেমোক্র্যাট পার্টির হয়ে ওয়েস্টার্ন টাওন-এর কো-চেয়ারম্যান হিসেবে। আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশি হিসেবে নাজদার এ অবদান দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলই করেছে ।
ব্যক্তিগত পরিশ্রম আর সততাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন নাজদা। সরকারি চাকরির পাশাপাশি মহিলা ও শিশু উন্নয়নে কাজ করেন। আমেরিকার বিখ্যাত মহিলা সংগঠন ‘এমিলি’স লিস্ট’ এর সদস্য তিনি। সংগঠনটি মহিলা সংগঠকদের সহযোগিতা করে। সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতায়ও তার অবদান অনন্য।
মানবপ্রেমী এ সংগঠক কাজ করতে চান বাংলাদেশের নারী ও শিশু উন্নয়নে। তার পরিকল্পনা, এমিলি’স লিস্টের মতো একটি সংগঠন বাংলাদেশে তৈরি করা। এছাড়া একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় নারী ও শিশুদের উন্নয়নে কাজ করা তার স্বপ্ন। অবসরে বাগান করেন। বই পড়েন। আমেরিকার রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নাজদা আলম মনে করেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। হানাহানি আর সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনীতির প্রবর্তন জরুরী বলে মন্তব্য তার। রাজনীতিবিদদের বেশি বেশি জনসংযোগ প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সহায়তা করে বলে মনে করেন নাজদা। নাজদার আশাবাদ, এ দেশের রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বমাঝে লাল-সবুজের পতাকা পতপত করে উড়বে।