বাংলাদেশের দরিদ্রদের জন্য এভারেস্ট জয়
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ১৯:৪৫
পর্বতারোহী মারিয়া কনসিকাউ ‘মারিয়া ক্রিস্ট্রিনা ফাউন্ডেশনের’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। যেটি বাংলাদেশের বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবা দেয়াসহ দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশী দরিদ্রদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার লক্ষ্যেই এভারেস্ট জয়ের পথে পাড়ি জমান পূর্তগিজ নারী মারিয়া কনসিকাউ। দীর্ঘ যাত্রা শেষে এভারেস্ট জয়ে সক্ষম হন গত ২১ মে। তার এই যাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের গরিব ও পুষ্টিহীনতার শিকার অসুস্থ শিশু-কিশোরদের প্রতি সবার সচতেনতা বৃদ্ধি এবং ১০ লক্ষ ডলারের একটি তহবিল সংগ্রহ, যার সাহায্যে তিনি এই অসহায় দুস্থদের জন্য কিছু করে রেখে যেতে পারেন। ২০০৫ সালে ইউএই এমিরেটসের বিমানবালা হিসেবে কাজ করার সময় তিনি বাংলাদেশে এসে বস্তির শিশুদের জীবনচিত্র দেখেন, যা দুবাই এর জৌলুসময় জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ দৃশ্য তার জীবনধারা সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। তাই এক মাস পর সেই শিশুদের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে তিনি আবার বাংলাদেশে ফেরত আসেন। তার পারিবারিক ও বন্ধুদের সহযোগিতায় নানা চ্যারিটি প্রজেক্ট চালু করেন। তার প্রথম যাত্রা শুরু হয় এক ঘরের এক স্কুল রুম দিয়ে। তিনি বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য নার্সিং কেয়ার সেন্টার, একটি লাইব্রেরিসহ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুল, আইটি ট্রেনিং সেন্টার, একটি প্রাথমিক চিকিত্সা কেন্দ্র ও ডেন্টাল কেয়ার সেন্টার স্থাপন করেন। তিনি বস্তিতে রাস্তা নির্মাণ, সাতশর বেশি শিশুর জন্ম নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র প্রদান প্রভৃতি কাজও করেন।
২০০৯ সালে তিনি আরও কঠিন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত হওয়া শুরু করেন। বহু শিশুকে পড়ানোর উদ্দেশ্যে দুবাইও নিয়ে যান। দিন দিন দারিদ্র্যতা বাড়তে থাকায় তার দায়িত্ব আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে। শিশু-কিশোরদের দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে ও অর্থের তহবিল জোগাড় করার লক্ষ্যে তিনি বহু বিপজ্জনক কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে কিলিমানজারোর শৃঙ্গ জয়, উত্তরমেরু অভিযান, সাত মহাদেশের পর পর সাতদিনে তিনি সাতটি ম্যারাথনে অংশ নেন। তার মধ্যে সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ ছিল এভারেস্ট জয়। তা জয় করার মাধ্যমে তিনি এভারেস্ট জয়ী প্রথম পূর্তগিজ নারী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় যেমন স্থান দখল করে নিলেন তেমনি দশ লাখ ডলারের তহবিল অর্জনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের দুস্থ শিশু-কিশোরদের অনিশ্চিত জীবনযাত্রার পথকে আলোকোজ্জ্বল করে তোলার পথে আরো অগ্রসর হলেন।