হ লি উ ড তা র কা

সোফিয়া লরেন

বাবা তাকে সন্তানের স্বীকৃতি দেয়নি। বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হয়ে এক মেয়ে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েছেন তিনি সোফিয়া লরেন। সোফিয়ার জন্মের আগে তার মা রোমিলডা একজন পুরুষকে ভালোবাসতেন। সেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলনের ফলেই রোমিলডা গর্ভবতী হন। লোকটি তাকে বিয়ে করতে আপত্তি জানায়। ওই সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। দশের চোখে ছিল অবৈধ। সেই শিশুকন্যাই একদিন বড় হয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী হলেন। এই মায়ের জীবন নিয়ে একটা ছবি তৈরি হয়। ‘রোমিলডা’ নামের এই ছবিতে সোফিয়া মা ও মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন সোফিয়া লরেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মডেল হিসেবে বিনোদন জগতে যাত্রা শুরু হয় তার। চলচ্চিত্র প্রযোজক কার্লো পন্টির সঙ্গে পরিচয়ের পর অভিনয় জগতে পা রাখেন সোফিয়া। ১৫ বছর বয়সে ৩৭ বছর বয়সী পন্টিকে বিয়ে করেন লরেন। ১৯৫০ সালে মুক্তি পায় সোফিয়া লরেন অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আই অ্যাম ক্যাপাটাজ’। পরে ‘সানফ্লাওয়ার’, ‘হাউসবোট’, ‘ইয়েস্টারডে, টুডে অ্যান্ড টুমরো’, ‘ম্যারেজ ইতালিয়ান স্টাইল’, ‘এল সিআইডি’, ‘দ্য ফল অব দ্য রোমান এম্পায়ার’, ‘ম্যান অব লা মাঞ্চা’, ‘দ্য কাসান্ড্রা ক্রসিং’, ‘এ স্পেশাল ডে’সহ অসংখ্য ছবি উপহার দিয়েছেন গুণী এ অভিনেত্রী। ‘ও ম্যান অব দ্য রিভার’ ছবির মাধ্যমেই সোফিয়া লরেন ১৯৫৫ সালে ইতালির সেরা অভিনেত্রীর সম্মান লাভ করেছিলেন। ‘আফ্রিকা আন্ডার দ্য সি’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক খ্যাতি পেয়েছিলেন। রানী এলিজাবেথ এ ছবিটি দেখে এতই মুগ্ধ হলেন যে, তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ‘টু উইমেন’ ছবির জন্য ১৯৬১ সালে অস্কার ঝুলিতে ভরেন সোফিয়া। তার অস্কার জয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দ্য একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। অনুষ্ঠানটি থেকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে ৭৭ বছর বয়সী এই অভিনয় শিল্পীকে। ১৯৯৪ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উত্সবে তার চলচ্চিত্র কর্মের জন্য তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯৮০ সালে এই অভিনেত্রীর জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘সোফিয়া লরেন: হার ওন স্টোরি’। ২০০৭ সালে স্বামী কার্লো পন্টিকে হারান এই অভিনেত্রী। তার দুই ছেলে কার্লো পন্টি জুনিয়র ও অ্যাডৌরা পন্টি। সোফিয়া লরেন সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ২০০৯ সালে, ‘নাইন’ ছবিতে। তার অভিনীত ‘টু ওম্যান’ এবং ‘সান ফ্লাওয়ার’ ছবি দুটি এক সময় ঢাকার রিলিজ হয়েছিল। তখন এ ছবি দুটি দেখার জন্য দর্শকের প্রচন্ড ভিড় জমেছিল প্রেক্ষাগৃহের সামনে। সে কথা কী ভোলার! তিনি হলিউডের ছবিতে অভিনয় করে রীতিমত হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তির তারকা। তার ঐশ্বর্য-খ্যাতি এখনও যে ভোলার নয়। প্রখ্যাত ইতালিয়ান চিত্র নির্মাতা ভেট্টোরিও ডি সিকা পরিচালিত বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনিই প্রথম সেই অস্কার জিতেছিলেন। সম্প্রতি সোফিয়ার সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি তারকা মেলায় পরিণত হয়েছিল। টম হ্যাংকস, জন ট্রাভোল্টা, রবার্তো বেনিগনিসহ অন্তত ৮০০ তারকা ও নির্মাতা হাজির হয়েছিলেন এ অনুষ্ঠানে। সোফিয়া লরেনের বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে সোফিয়া লরেন বলেছেন, ‘প্রথম অস্কার জেতার পর আমার জীবন পুরোপুরি পাল্টে যায়। সেই স্বীকৃতি অভিনয়ের প্রতি আমার আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, নিজের শিল্পী-সত্তাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রথম অস্কার ঘরে নেয়ার পর ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। এটা কল্পনাও করতে পারছি না। মনে হচ্ছে, এই তো সেদিনের ঘটনা। এ মুহূর্তে আমার ভেতরের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’ জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।