শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হতে পারে। বর্তমানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলছে দুঃসময় পরিস্থিতি। সংলাপ ও আলোচনার তেমন কোন অগ্রগতি প্রতিফলিত হচ্ছে না। সরকারি দল বিভিন্ন সময়, বিভিন্নভাবে বিরোধীদলের হরতাল দেবার ইস্যু তৈরি করে দিচ্ছে। যার ফলে বিরোধীদল হরতাল আহ্বান করছে। যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শীর্ষ দুই দলের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে আলোচনার সময় এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়টি জনগণের মতামতের ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। মো. তাজমুল হুদা (উল্লাস), মাস্টার্স ১ম বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি সা’দত কলেজ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), করটিয়া, টাঙ্গাইল শান্তিময় পরিবেশ থাকতে হবে যেকোন কিছুর উন্নয়নের জন্যই শান্তি একটি অপরিহার্য অংশ। শান্তিময় পরিবেশ ছাড়া কোনকালেই ভালো কিছু হয়নি, হবেও না হয়তো। কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের শান্তি এখন অশান্তিতে রূপ নিচ্ছে। ক্রমেই কেমন যেন একটা ভয়াবহ অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়, যদি ওই ধরনের কোন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা হলেন সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ। অথচ সবাই সবসময় বলে জনগণের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেব। অপসোস! সেই সময়টা কবে আসবে জানা নেই কারোর। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এমন এক জায়গায় আছে যে, সম্ভব হোক আর না হোক এক দল চাইছে এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, আরেক দল চাইছে কখনোই ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য। এটা আমার কথা না, লোক মুখে এটাই শুনা য়ায়। কেন জানি জনগণের চাওয়ার গুরুত্ব কেউ দিতে চায় না। এই যে সামনে নির্বাচন আসছে, এটা যেন নির্বাচন নয়। এ যেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ! নির্বাচন নিয়ে মানুষের যে এত ভয় এটা বোধহয় কাউকে স্পর্শ করছে না। এ থেকে কত যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তা হয়তো সরাসরি দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু একটা সময় বুঝা যাবে। এই ঝামেলা ও ক্ষতি থেকে মাননীয় সরকার আমাদের বাঁচাতে পারে। সুন্দর ও শান্তিময়, নির্জলা একটা নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে। আশাকরি মাননীয় সরকার জনগণের দিকে তাকিয়ে দেশের কথা ভেবে শান্তিময় একটা পরিবেশ বজায় রেখে আমাদের একটা সুন্দর ঝামেলামুক্ত ও সঠিক একটা জাতীয় নির্বাচন উপহার দিবেন। এটাই দেশবাসীর কাম্য। কবির খন্দকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান দু্ই দলের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া শান্তিপূর্ণ সমাধান এটি বলার অবকাশ নেই যে, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। যদিও বলা হয়ে থাকে তৃতীয় বিশ্বেও উন্নয়নশীল দেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিত্রপট পরিবর্তিত হয়েছে বারবার। আর রাজনৈতিক চিত্রপট পরিবর্তনের সাথে সাথে কখনো দ্রুত মন্থর আবার কখনো দ্রুত গতিতে চলেছে এদেশের অর্থনীতির চাকা আবার কখনো মুখ থুবরে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। কালক্রমিক ধারাবাহিক রাজনৈতিক চিত্রপট পরিবর্তনের নতুন এক অধ্যায় বর্তমান রাজনৈতিক ২০১৩। আজ ২০১৩ সালের রাজনীতি ও প্রধান ইসু হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক। এই ইসুকে কেন্দ্র করে পুরো দেশ জুড়ে চলছে তাণ্ডব। চলমান হরতালে বিপর্যস্ত নাগরিক জীবন। অর্থনীতিতে পড়েছে ব্যাপক প্রভাব। পরিবহন যানবাহন ভাঙ্গচুর অগ্নিসংযোগ তো আছেই। এছাড়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির মেরুদন্ড পোশাক শিল্প। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং হচ্ছে বিদেশে বিনিয়োগ। সেই সাথে দাতা গোষ্ঠি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বহির্বিশ্বে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। যা অব্যাহত থাকলে এদেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে মাত্রাতিরিক্ত বেকারত্ব। তাই প্রধান দু্ই দলের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া শান্তিপূর্ণ সমাধান। এক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ উপায়ে হস্তান্তর হতে পারে মাইলফলক। বেঁচে যেতে পারে আমাদের মৃতপ্রায় অর্থনীতি। সুতরাং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। নাফসুন রহমান মৌলি ৪র্থ বর্ষ, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণভাবে সঠিক নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা একটি স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রের উন্নয়নের একমাত্র ও অন্যতম পূর্বশর্ত হল দেশের সকল কর্মকাণ্ড কাদের দ্বারা পরিচালিত হবে। তাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বা ক্ষমতা কাদের উপর অর্পণ করা হবে তার উপর অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুরোটাই নির্ভর করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে এ ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে না। বর্তমান যুগে ক্ষমতা হস্তান্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। আর এই ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে হচ্ছে নানা রকম অসামাজিক কর্মকাণ্ড। দেশের কিছু সংখ্যক ক্ষমতালোভী, প্রভাবশালী মানুষের কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে আর এ কারণে দেখা দিচ্ছে অর্থনৈতিক মন্দা। কারণ কর্মকর্তার লোভ, আজকের রাজনৈতিক নেতা নামধারীরা ঘটাচ্ছে হাজারো অপকর্ম এবং নিজেদের ব্যাংক ভারি করছে। যার ফলে স্বরূপ বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে থাকলে আমাদের এ সোনার বাংলা তলিয়ে যাবে অতল গহ্বরে। তাই এখনই উপযুক্ত সময় যে, শান্তিপূর্ণভাবে সঠিক নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এতে আমাদের অর্থনীতি হবে সফল এবং দেশের হতদরিদ্ররা দেখবে আশার আলো। মমরেজ আরিফা হ্যাপি প্রাণিবিদ্যা, ২য় বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনুলিখন :সানজিদা জিনিয়া