বরিশালে ইসলামী দলের ভোট ভাগ
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ২১:১৬
বিএনপি দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল একক ভাবে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোর ভোট পাচ্ছেন না। ইসলামী দলগুলোর ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে তিন প্রার্থীর মধ্যে।
হেফাজতে ইসলামের আমীর মাহমুদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব শুরুতে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের পক্ষে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। ঐ মাদ্রাসায় শওকত হোসেন হিরন ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু তফসিল ঘোষণার পরই হাজির হন। সেখানে উপস্থিত হেফাজতের বরিশালস্থ আমীর ও জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের খতীব মাওলানা নূরুর রহমান বেগসহ উপস্থিত আলেম-ওলামাগণ স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য শওকত হোসেন হিরনকে ভোট প্রদানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল, সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস ঐ মাদ্রাসায় গিয়ে সভা করেন। সেখানে হেফাজত আমীর মাওঃ ওবায়দুর রহমান মাহবুব বিএনপি নেতাদের সাথে হাত উঁচু করে সমর্থন জানিয়ে ফটো সেশনে অংশ নেন। শনিবার বিএনপি নেতারা বাজার রোড খাজা মুঈনুদ্দিন মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সেখানে হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাতের পূর্বে আলেম-ওলামাদের প্রতি সরকারের নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করা হয়। ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন না সংগঠনের স্থানীয় আমীর ওবায়দুর রহমান মাহবুব।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জোটের সমর্থিত দুই প্রার্থী দাবি করছেন হেফাজতে ইসলাম তাদের পক্ষে রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করতে হেফাজতে ইসলামের বরিশালের আমীর মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুবের সাথে ৩ দিন পূর্বে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরদিন সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করেন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, কোনো প্রার্থীর পক্ষে নয় তবে একটি দলের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট না দেয়ার জন্য হেফাজত নেতা-কর্মীদের বলা হয়েছে। কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিচ্ছেন তা স্পষ্ট করে জানার জন্য সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হালিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ইত্তেফাককে জানান, আপনারা সচেতন নাগরিক হয়ে ১৪ দলের প্রার্থীকে হেফাজত কিভাবে সমর্থন দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মেয়র প্রার্থী হিসাবে ব্যক্তি শওকত হোসেন হিরন ভালো যোগ্য লোক। কিন্তু তাকে যে দল সমর্থন দিয়েছে সেই দল দেশের আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ঐ দলের সমর্থিত কোনো প্রার্থীকে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা ভোট দিতে পারে না। সংগঠনের আমীর ইতিপূর্বে হেফাজতের সমাবেশে শওকত হোসেন হিরনের প্রশংসা করে বক্তৃতা প্রদান এবং মাদ্রাসায় বসে হিরনকে ভোট দেয়ার আশ্বাসের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আমীর অধ্যক্ষ মাহবুবের সাথে কথা বলেছেন। তিনি শওকত হোসেন হিরনকে সমর্থন দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, হিরন ও সাইদুর রহমান রিন্টু তার বাল্য বন্ধু। নির্বাচন উপলক্ষে তার কাছে দোয়া চাইতে গিয়েছিলেন। তিনি দোয়া করেছেন সমর্থন দেননি। হেফাজত নেতা-কর্মীরা আনুষ্ঠানিক কোনো পক্ষে বা বিপক্ষে এখনো প্রচার-প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেননি। তবে তাদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে সংগঠনের অপর নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে। কেউ কেউ উন্নয়নের স্বার্থে শওকত হোসেন হিরনকে ভোট দেয়ার কথা জানিয়ে ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় চিন্তা-ভাবনার উর্ধ্বে থেকে উন্নয়নের স্বার্থে শওকত হোসেন হিরনকেই তারা ভোট দেবেন।
একই অবস্থা ইসলামী আন্দোলনের। ঐ সংগঠনের মহানগরীতে ভোট রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। তাদের ভোট পেতে ৩ প্রার্থী দফায় দফায় যোগাযোগ করেন। হেফাজতে ইসলামের মতই রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
এ সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য হযরত মাওলানা সৈয়দ মুফতী ফয়জুল করিমের সঙ্গে সিটি নির্বাচন নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিজস্ব দলীয় কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে তারা সমর্থন দেননি। পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ফয়জুল করিম জানান।