শেওড়াপাড়ায় জোড়া খুন

দুই পেশাদার খুনি গ্রেফতার

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় জোড়া খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুই পেশাদার খুনিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো: মিলন প্রামানিক ওরফে বাদল (৪০) ও তার সহযোগী সোহেল রানা (২৫)। শনিবার গভীর রাতে উত্তরা (পূর্ব) থানাধীন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব। তাদের কাছ থেকে নিহত বাশার ও রাজীবের ব্যবহূত মোবাইল ফোন সেট, কম্পিউটার, আইফোন, নগদ ৯১৩ টাকা, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও তাদের ব্যবহূত কাপড়-চোপড়সহ ৪৭ ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার শেরেবাংলা নগরে র্যাব-২-এর কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃতদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। শনিবার গভীর রাতে র্যাবের মেজর আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত এসপি রায়হানউদ্দীন খান ও সিনিয়র এএসপি বশির আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম উত্তরা (পূর্ব) থানাধীন আব্দুল্লাহপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করে। র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, রাজীব ও বাশারের হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা পেশাদার খুনি। তারা রুমমেটের ছদ্মবেশে বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের মেসে ওঠে। পরে অর্থ ও মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। কখনো বাধা পেলে খুনের মতো বর্বর ঘটনাও ঘটায়। মিলন ও সোহেল রানা তাদের পেশাদার গ্রুপের কথা স্বীকার করেছে। রাজীব ও বাশার খুনের আগেরও একাধিক ঘটনার তথ্য সরবরাহ করেছে। প্রাথমিকভাবে জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত পেশাদার গ্রুপের চারজনের তথ্য মিলেছে। এদের মধ্যে রুমমেট মিলন, ফারুক ও একজন বহিরাগত ঘাতক সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকিরা নেপথ্যে সহযোগিতা করে। তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। র্যাব জানায়, ৩১ মে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। প্রথমে খাইরুল বাশারকে খুন করে ওরা। ঘটনা দেখে ফেলায় আনহারুল ইসলাম ওরফে রাজীবকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পরই দুই রুমমেট করিম, ফারুক হোসেন ওরফে রুবেল ও কাজের বুয়া বকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। তবে কাজের বুয়া বকুল জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে সকাল ১১টার দিকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় বাসায় দেখে যান বাশার, রাজীব ও মিলনকে। তারা তিনজনই শোয়া অবস্থায় ছিলেন। গ্রেফতার মিলন র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এ জোড়া খুনের পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন রুবেল। তার কথামতো সে ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তাদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন ছিল। র্যাব-২-এর অতিরিক্ত এএসপি রায়হান উদ্দীন খান বলেন, প্রধান সন্দেহভাজন আসামি মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদেই প্রকৃত খুনি শনাক্ত হবে। গত শুক্রবার দুপুরে শেওড়াপাড়ার শামীম সরণিতে মেস থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা খায়রুল বাশার হাওলাদার (২৮) ও বেসরকারি গ্রিন ইউনিভার্সিটির এমবিএ-এর ছাত্র আনহারুল ইসলাম রাজিবের (২৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জোড়া খুনের মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে ন্যস্ত হয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার ডকেট ও নথি বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতেই নিহত বাশারের চাচা বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। রহস্য উদঘাটনে র্যাব ও ডিবি পুলিশের দুইটি টিম কাজ করে।