চকরিয়ার পাহাড়ে ২০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ২২:০৭
উপজেলার ১০ ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০ হাজার পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে। বিগত কয়েক যুগ ধরে এসব পরিবার পাহাড়ি এলাকার বিপুল ভূমি অবৈধ দখলে নিয়ে ও ক্ষেত্র বিশেষে দখলবাজদের কাছ থেকে ক্রয় করে গড়ে তুলেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতিবাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তারা পাহাড়ের পাদদেশে এই অবস্থায় বসবাস করলেও স্থানীয় প্রশাসন অথবা বনবিভাগ তাদেরকে কোন ধরনের বাধা দেয়নি।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. আসলাম মজুমদার বলেন, ইতোপূবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা এসব বসতি উচ্ছেদ করা হলেও তারা কিছুদিন নীরব থাকার পর একই জায়গায় আবারো অবৈধ বসতি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব অবৈধ বসতি নির্মাণের পেছনের জড়িত থাকার কারণে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও পরে তারা একইস্থানে বসতি নির্মাণ করার সাহস পাচ্ছে। জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। একইভাবে পাহাড় ধসের ঘটনায় গতবছর চকরিয়া উপজেলার হারবাং ও খুটাখালী ইউনিয়নে একদিনে মহিলা, শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। অনুরূপভাবে চকরিয়ার নিকটস্থ লামার ফাইতং ইউনিয়নে গতবছর পাহাড় ধসে নারী, শিশুসহ ২৩ জন মারা যায়। এসব ঘটনা পুনারাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় গত ২৮ মে উপজেলা প্রশাসন লিখিত নোটিস জারি করে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন। কিন্তু তা কেউ আমলে নিচ্ছে বলে মনে হয় না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছন্যাকাটা, বানিয়ারছড়া, মাহমুদ নগর, পাহাড়তলী, ভিলেজার পাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলাম নগর, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া, নয়াপাড়া, হারবাং ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া, শান্তি নগর, ফইজ্যার ডেবা, লম্বা ঘোনা, কাকারা ইউনিয়নের বার আউলিয়া নগর, শাহওমর নগর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, ছগিরশাহ কাটা, ছায়রা খালী, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ও বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় কমপক্ষে ২০ হাজার পরিবার পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন বিগত কয়েক যুগ ধরে। বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক, হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মো. বাবর ও খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থানরত লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া উপজেলা প্রশাসনের লিখিত নোটিস পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়নে পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থানরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তারপর এসব পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে।