বাগমারায় ৩৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি

বাগমারায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয়শ শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারা গত ১০-১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো অপেক্ষায় আছেন কবে তাদের এমপিওভুক্ত করা হবে । উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় ১৬টি মাদ্রাসা ১৮টি স্কুল ও পাঁচটি কলেজ এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। বেতনের আশায় তারা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এমপিও’র অপেক্ষমান তালিকায় বাগমারার সবচেয়ে পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯৯৮ সাল হতে বেশ সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এটি বিগত কয়েক বছরের ফলাফলের ভিত্তিতে উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠান। অথচ আজও প্রতিষ্ঠানটি এমপিও হয়নি। ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানে গত ১৩ বছর ধরে শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছে। তারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে করছেন মানবেতর জীবন-যাপন। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, বেতনের আশায় এখনো প্রহর গুণছি। সংসারে অর্থ কষ্ট এখন মরণব্যাধির মত চেপে বসেছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেন সরদার বলেন, এমপিওভুক্ত না হয়েও বিনা বেতনে শিক্ষকরা শিক্ষার মান ধরে রেখেছেন। তবে বেতনভুক্ত হলে জাতিকে তারা অনেক ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে। বাগমারায় এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আলিম স্তর ও ভোকেশনাল শাখা এবং হাটমাধনগর, ভটখালী ও শ্রীপুররামনগর আলিম মাদ্রাসার আলিম স্তর। এছাড়াও আছে মচমইল, কোন্দা, কোয়ালীপাড়া, নখোপাড়া, হাট-একডালা, খাজাপাড়া, কুমারপুর, অর্জুনপাড়া, গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ দাখিল মাদ্রাসার দাখিল স্তর এবং নরসিংহপুর ও বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল স্তর। আরো আছে—দ্বীপপুর, সুলতানপুর ও পীরগঞ্জ স্কুলের মাধ্যমিক স্তর। এছাড়াও আছে সাজুড়িয়া, নাজিরপুর, কুলিবাড়ি, যোগিপাড়া, ঝিকরা, বিলসনি, ভবানীগঞ্জ আইড়িয়াল, সোনাডাঙ্গা, রুহিয়া মাহমুদপুর, সারন্দী, অভ্যাগতপাড়া, বাইগাছা ও আক্কেলপুর নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, মজোপাড়া মহিলা, কাতিলা, খালগ্রাম ও দ্বীপনগর মহিলা বি এম কলেজ। রাজশাহী-৪’র সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, বাগমারার এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া খুব প্রয়োজন। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত হতে পারে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খো. রুহুল আমিন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, বাগমারায় ননএমপিওভুক্ত অনেক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুনামের সাথে শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে । অথচ প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।