কেমন আছেন প্রধানমন্ত্রীর তিন কন্যা

নিমতলী ট্র্যাজেডি দিবস আজ

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর প্রধানমন্ত্রী সব হারানো যে তিনজনকে মেয়ে বলে গ্রহণ করেছিলেন তারা ভালো আছেন। ওই তিন মেয়ের ঘরে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন নাতি-নাতনী। এদের একজনের নাম আলী মর্তুজা আযান, দ্বিতীয় জনের নাম শ্রদ্ধা এবং তৃতীয় জনের নাম রমাদান। আলী মর্তুজা আযানের বয়স ২ দিন কম ২ বছর। শ্রদ্ধার বয়স ৯ মাস এবং রমাদানের বয়স ২৩ মাস। এই তিন নাতি হলেন নিমতলী ট্রাজেডিতে আপন জন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সেই তিন কন্যার সন্তান। প্রধানমন্ত্রীর তিন কন্যারা হলেন-উম্মে ফারওয়া আক্তার রুনা, সকিনা আক্তার রত্না ও আসমা আক্তার শান্তা। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১, নবাব কাটরা ৫তলা বাড়িতে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৩ জন প্রাণ হারান। আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় কয়েকটি পরিবার। বাড়ির নীচে ক্যামিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রুনার বিয়ের ‘পানচিনি’ অনুষ্ঠানের দিন এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবার-পরিজন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া রুনা, রত্না ও শান্তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুকে টেনে নেন। নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে ঘোষণা দেন তারা তার নিজের সন্তান। এরপরই গণভবনে নিজে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তার তিন কন্যার বিয়ে দেন। গতকাল নিমতলীর হোসনী দালান রোডে এ তিন কন্যার বাসায় গিয়ে কথা হয় তাদের সাথে। তাদের প্রত্যেকের ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। প্রধানমন্ত্রী তার এ তিন নাতির খোঁজ-খবর নেন। চাঁনখারপুলের হোসনী দালান রোডের ১৮/১০, শিয়া গলির বাড়ির দোতলায় থাকেন উম্মে ফারওয়া আক্তার রুমা। কেমন আছেন? জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘মায়ের দোয়ায় ভালই আছি। হারিয়ে যাওয়া মা, খালা, বোনদের কথা বার বার মনে হয়। তাদের হারানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ হিসাবে পাবার পর আমাদের আর কোন কষ্ট নেই। ২০১১ সালের ৫ জুন তার ঘরে এসেছে আলী মর্তুজা আযান। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার নাতির খোঁজ নিয়েছেন। আযান জন্ম গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ফুল পাঠিয়েছিলেন। তার উকিল বাবা সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোন করে কথা বলেন। ’ তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। রুনার স্বামী সৈয়দ রাশেদ হোসাইন জামিলকে প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌ বাহিনীতে চাকরি দিয়েছেন। এখন সংসার ভালই চলছে। সকিনা আক্তার রত্না জানান, এখনো সেই দিনের কথা বার বার মনে পড়ে। তখন কেউ দেখার ছিল না। গণভবনে বিয়ের পর মায়ের নির্দেশে তার স্বামী সাইদুর রহমান সুমনকে বেসিক ব্যাংকে চাকরি দেয়া হয়। এখন তারা ১৬/৫, নবাববাগিচায় থাকছেন। ৯ মাস আগে তাদের ঘরে মেয়ে সন্তান শ্রদ্ধার আগমন ঘটে। আসমা আক্তার শান্তা জানান, গণভবনে বিয়ের পর তার মা (প্রধানমন্ত্রী) স্বামী আলমগীর হোসেনকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বামীর ঐ চাকরি ভালো লাগেনি বলে ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করছেন। এখন তারা পুরান ঢাকার আগা সাদেক লেনের ৯৬/১ নম্বর বাড়িতে থাকেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে আসা নতুন অতিথির নাম রাখা হয়েছে রমাদান। সেই বিভীষিকাময় বাড়ি:৪৩/১, নবাব কাটরা, নিমতলীর সেই ৫তলা বাড়িটিতে আগুনে পোড়া কোন দৃশ্য নেই। নীচতলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত পুরো বাড়িটি এ তিন বছরে অনেক পাল্টে গেছে। বাড়ির তিন তলায় দিদার, চতুর্থ তলায় ফারুক আহমেদ ও ৫ম তলায় গুলজার বসবাস করেন। তবে এ তিন ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানরা নিমতলীর ট্র্যাজেডিতে নিহত হয়েছেন। বড় ভাই গুলজার জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর নিহতদের জন্য ১ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য করেন। কিন্তু পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এখন মরা কাঠের মত বেঁচে আছেন। বার বার মনে পড়ে স্ত্রী ইয়াসমিন গুলজার ও দুই ছেলে ইসতিয়াক গুলজার ও ইমতিয়াজ গুলজারকে। অগ্নিকাণ্ডে তার মা সাবেরা বেগম, চাচী মনোয়ারা বেগম, মেজো ভাইয়ের স্ত্রী শিল্পী, তার দুই ছেলে ইমরান ও আদৃতা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রানী, তার দুই মেয়ে আনিকা ও অংকিতা নিহত হয়। ঘটনাস্থলের সামনের ৪৩, নবাব কাটরা বাড়ির নীচতলায় দোকানদার মামুনের সঙ্গে কথা হয়। ঐ দিন তার ৭ বছরের ছেলে বৈশাখ মারা যায়। ছেলেকে হারিয়ে তিনি আবারো নতুন দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ বাড়ির পাশে ৪৪/১, নবাব কাটরার তাজ ডেকোরেটরে গিয়ে কথা হয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত তাজ মিয়ার বাবা সাদেক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ঘটনার দিন তার ছেলে, ছেলের স্ত্রী বেবি আক্তার নিহত হয়। ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি দোকানের হাল ধরেছেন। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ:নিমতলী ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। আজ নিমতলী ট্র্যাজেডি দিবসে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হবে। আজ নিমতলীর ট্র্যাজেডিতে নিহত ১২৩ জনের স্মরণে এ এলাকায় শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।