কে হচ্ছেন দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১২ জুন। আইন অনুযায়ী এখন নতুন একজন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে। এ জন্য বাছাই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূঞা ইত্তেফাককে জানান, বাছাই কমিটির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারপতির নাম চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। নাম পাওয়া গেলে কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ সচিব অথবা তার আগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবও থাকবেন। প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে দুদক গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইনের ৭ ধারা মতে বাছাই কমিটি একটি পদের জন্য দুইজনের নাম সুপারিশ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা থেকে একজনকে নিয়োগ দেবেন। তিনজন কমিশনার নিয়োগ প্রাপ্ত হলে রাষ্ট্রপতি তা থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেবেন। কমিশনারগণের মেয়াদ হবে চার বছর। চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের মেয়াদ ১২ জুন শেষ হলেও অপর দুই কমিশনারের মেয়াদ রয়েছে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। সাবেক ইপিসিএস কর্মকর্তা বদিজ্জামান এবং সাবেক জেলা জজ সাহাবুদ্দিন চপ্পু গত ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কমিশনার পদে যোগ দেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গোলাম রহমানের স্থলে একজন নতুন কমিশনারের খোঁজ শুরু হয়েছে। তবে দুদক সাংবিধানিকভাবে আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর প্রধান পদে বিচারিক কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কাউকে নিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। এক্ষেত্রে সাহাবুদ্দিন চপ্পুকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তার ৩০ বছরের বিচারিক কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে সরকারের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তিনিই সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন বলে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল স্বীকার করেন। তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও নেই। অবশ্য বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী বদিউজ্জামানকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের পক্ষেও জোরালো মত রয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম নাসিরউদ্দিনের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ড. নাসির উদ্দিন না হলে সাবেক ইপিসিএস এম মহিউদ্দিনকেও কমিশনার নিয়োগ দেয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাহাবুদ্দিন চপ্পু অথবা বদিউজ্জামানকে চেয়ারম্যান নিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।