সংসদে নির্দলীয় সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া

আজ সোমবার শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের ১৮তম ও বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনেই যোগ দিতে পারে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিকেলে সংসদীয় দলের সভা শেষেই বিরোধী দলের অধিবেশনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, বিরোধী দলকে হয়রানির বিষয় উল্লেখ করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন। কেন নির্দলীয় সরকার প্রয়োজন, এর যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন তিনি। তবে নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা কিংবা রূপরেখা দেবেন না তিনি। সংসদে ফিরলেও আজই তিনি বক্তব্য রাখবেন কিনা তাও এখনও নিশ্চিত নয়। বিএনপি দলীয় একাধিক সংসদ সদস্য গতকাল ইত্তেফাককে জানান, আজ সংসদে গেলেও ৬ জুন জাতীয় বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের দিন তারা সংসদে থাকবেন না। বাজেট উপস্থাপনের পর আবার তারা সংসদে ফিরবেন। কোনো কারণে আজ সংসদে না ফিরলে বাজেট উত্থাপনের পর তারা সংসদে যাবেন এবং খালেদা জিয়াও তখনই বক্তব্য রাখবেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদে ফেরার তারিখ নিয়ে দলে একাধিক মত রয়েছে। একটি অংশ মত দিয়েছে যে, অধিবেশনের প্রথমদিনেই যোগ দেয়া উচিত। কয়েকদিন পর যোগ দিলে তা শুধু সদস্যপদ রক্ষার জন্য বলে দেশবাসী মনে করবে। একাংশের মত, আজকের সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে অধিবেশনের প্রথমদিন না হলেও দ্বিতীয়দিনে যোগ দেয়া যেতে পারে। আবার একটি অংশের মতে, অধিবেশনের প্রথমদিন না গিয়ে একেবারে বাজেট উত্থাপনের পর ৯ জুন গেলে ভালো হয়। জানা গেছে, বিরোধী দলীয় নেতা এরইমধ্যে সবার মত নিয়ে বাজেট উত্থাপনের আগেই অধিবেশনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সংসদে যাচ্ছি-এটিই মূল কথা। তা আজ না কাল, নাকি বাজেটের পর সেটি বড় কথা নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্যের মধ্যেই তিনি নির্দলীয় সরকারের বিষয়টি তুলে ধরবেন। এর বাইরে নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে বিএনপি পৃথক কোনো প্রস্তাব সংসদে দেবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর একজন সদস্য ইত্তেফাককে জানান, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে যে বক্তব্য রাখবেন সেটির সারসংক্ষেপ এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’, হেফাজতে ইসলামের ঘটনা, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর ঘটে যাওয়া হতাহতের বিষয়, সাভারে রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের নজিরবিহীন তল্লাশি, বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার ও পত্রিকার ছাপাখানায় তালা দেয়ার প্রসঙ্গ, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারিসহ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। প্রসঙ্গত, বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা গড়ে টানা ৮৩ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। সদস্যপদ রক্ষায় এই অধিবেশনের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যেই তাদের যোগ দিতে হবে। তা না হলে সংবিধান অনুযায়ী টানা ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ছাড়া বাকি এমপিদের সদস্যপদ শূন্য হয়ে যাবে। অসুস্থতার কারণে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিত্সাধীন রয়েছেন কায়কোবাদ। এদিকে, বিএনপির দুই সংসদ সদস্য এম কে আনোয়ার ও বরকত উল্যাহ বুলু গতকাল জামিন পেয়েছেন। অধিবেশন শুরুর আগেরদিন তারা জামিন পাওয়ায় আজই বিরোধী দলের সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা বেশি। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, কখন সংসদে যাব সে বিষয়ে আজকের সংসদীয় দলের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে। সংসদে গেলে যে কোনদিন বিরোধী দলীয় নেতা বক্তব্য রাখবেন।