স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর কাজ কি জ্বালানি সরবরাহ!
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ২২:২০
দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হলো স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান কাজ। অথচ স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি তার মূল দায়িত্ব থেকে সরে স্বাস্থ্যখাতের ‘ভিআইপি’ ব্যক্তিদের গাড়িতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে। প্রতিবছর বাজেটে এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয় সভা-সেমিনারের নামে তার পুরোটাই লুটপাট করেন ব্যুরোর কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির কাছেও এর ভাগ যায়।
এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গতকাল রবিবার ব্যুরোর বর্তমান প্রধান আব্দুল ওয়াহেদ আকন্দের অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। দুই দফা তার মোবাইলে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বাসাবাড়িতে ব্যবহূত গাড়ির জ্বালানি সরবরাহে ব্যস্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক চিকিত্সক কর্মকর্তা যিনি সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়েছেন-ওই নেতার গাড়ির জ্বালানি পর্যন্ত ব্যুরো থেকে সরবরাহ করা হতো। এখনো ঐ নেতার জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ব্যুরোর গাড়ি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও তাদের বাসা বাড়িতে ব্যবহূত হচ্ছে। সেই সব গাড়ির জ্বালানিও এখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পেছনে চলে যায় ব্যুরোর অনেক টাকা। গতকাল স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান আবু হানিফ বেশ কয়েকটি জ্বালানির রসিদে স্বাক্ষর করছেন। এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যাই একাজ করতে হয়।
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে কর্মকর্তাদের যানবাহনের খরচ ও তাদের বাসাবাড়ির কাঁচা-বাজার সরবরাহ করতে করতে দিন কাটে তাদের। তাই পেছনে পেছেনে স্বাস্থ্য খাতের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই প্রতি-ষ্ঠানটিকে ডাকে ‘তেল মারার অফিস’ বলে। প্রতিবছর বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারপত্র, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও সেমিনারের নামে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়ে যায় ব্যুরোর। সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচেতনতার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগে ব্যুরোর ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। মামলার এক আসামি, যিনি সন্ধ্যার পর অফিস করতেন। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসার কাঁচা বাজার, কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের শাড়ি ও গয়না কেনার কাজ করতেন তিনি ওই সময়। বর্তমানে এই কর্মকর্তাসহ তিনজন অবসরে গেছেন। মামলার আসামি বাকি তিন কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য ১৯টি অপারেশনাল প্লান চলছে। এ কার্যক্রমের নামে চলছে হরিলুট।
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় হলেও বর্তমানে ব্যুরোর কার্যক্রম চালাচ্ছেন চিকিত্সা খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নন এমন ব্যক্তিরা। রোগ-বালাই সম্পর্কে নেই তাদের কোন অভিজ্ঞতা। ব্যুরোর দুই কর্মকর্তা বলেন, ১৯৫৮ সাল থেকেই ব্যুরোর কার্যক্রম এভাবে চলছে। বু্যুরোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বেশির ভাগ সময় মন্ত্রণালয়ের নামে বাইরে থাকেন। প্রচারের নামে ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পাওনা ব্যুরোর কাছে। ব্যুরোর বাত্সরিক বরাদ্দ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জনবল ৪৭ জন। প্রতি জেলায় দুই জন ও জেলা সদর হাসপাতালে দুই জন করে কর্মকর্তা রয়েছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর উপ-প্রধান আদম আলী পাটোয়ারী বলেন, ব্যুরোর কাজ হলো রোগ সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু সেই কাজ করতে পারছে না এখন ব্যুরো।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে ব্যুরোতে।