ট্রাইব্যুনালে সহপাঠীর সাক্ষ্য
রাজাকার ক্যাম্প উদ্বোধনের সময় নিজামী উপস্থিত ছিলেন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ২২:২১
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সহপাঠী মো. তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার (৭৪)। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুস সোবহান, ইছহাকসহ ১০০ থেকে ১৫০ জন রাজাকার উপস্থিত ছিল এবং কিছু উত্সাহী লোক সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। মতিউর রহমান নিজামী, সোবহানদের অনুগত রাজাকাররা স্থানীয় হিন্দুদের উপর অত্যাচার করতো, লুটপাট করতো। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ একদিন আগে সাক্ষীর নাম-পরিচিতি সম্পর্কে আসামিপক্ষকে কিছু না জানানোয় জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করে আসামিপক্ষ। পরে ট্রাইব্যুনাল জেরার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন।
জবানবন্দিতে সাক্ষী আরো বলেন, আমার মূল বাড়ি ধোপাদহ ইউনিয়নে অবস্থিত। মতিউর রহমান নিজামীর বাড়িও ঐ ইউনিয়নে। আমি এবং মতিউর রহমান নিজামী বোয়াইলমারী মাদ্রাসায় একই ক্লাসে লেখাপড়া করতাম। আমি ১৯৬৫ সালে সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মে মাসের মাঝামাঝি রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে ঘোষণা দিয়ে আমাদের স্কুল বন্ধ করা হয়। বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প উদ্বোধনের দিন আমি স্কুলে যেতে পারিনি। দূর থেকে দেখেছিলাম সেখানে মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুস সোবহান, ইছহাকসহ ১০০ থেকে ১৫০ জন রাজাকার এবং কিছু উত্সাহী লোক উপস্থিত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজাকাররা নিরীহ নিরস্ত্র জনসাধারণের উপর অত্যাচার শুরু করে।
উল্লেখ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে আটক করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত বছরের ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ১৬টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-১।
এদিকে, একই ট্রাইব্যুনালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী রফিকুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেককে মোবারকের উপস্থিতিতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের কৌঁসুলি আহসানুল হক হেনা। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ৯ জুন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।