মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েও গেজেটভুক্ত হতে পারেননি আঃ রহমান খান

মুক্তিযোদ্ধাদের জেলাভিত্তিক তালিকাভুক্ত হয়েও গেজেটভুক্ত হতে পারেননি মুলাদী উপজেলার আঃ রহমান খান। তিনি চাকরিকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে বাড়তি বেতন-ভাতা পেলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারায় মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব কাজিরচর গ্রামের মৃত রাজে আলী খানের পুত্র আঃ রহমান খান জানান, ১৯৭১ সালে তিনি সিলেট রাবার বাগানে সরকারি চাকরি করতেন। চাকরি করার সুবাদে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ক্যাম্পের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এক ক্যাম্প থেকে চিঠিপত্র আরেক ক্যাম্পে পৌছে দিতেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে এ কাজ করতে হতো। 

মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালে জাতীয় তালিকা ৬৩নং অনুচ্ছেদ বলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার সরকারি চাকরির বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া ওই বছর হবিগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মোঃ আঃ হাকিম তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেন। ওই প্রত্যয়নপত্র অনুসারে তিনি জেলাভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় বরিশাল জেলায় তালিকাভূক্ত হন। যার নম্বর ৩০৩। কিন্তু নানান জটিলতার কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হতে পারেননি। 

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হওয়ার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জামুকা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শেষ জীবনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ গফরগাঁওয়ে ধাওয়া খেয়ে আহত আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু

মুলাদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তির কোনো সুযোগ নাই। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ করে থাকলে গেজেটভুক্ত সহযোদ্ধাদের সত্যায়নের প্রেক্ষিতে গেজেটভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু