শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

অর্থনৈতিক উন্নয়নে দরকার শান্তিপূর্ণ রাজনীতি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে তা এই দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের দ্বারা জনগণের মঙ্গল না হলেও অর্থনীতিকে দেখভাল করার দায়িত্বে যারা আছে তারা ঠিকই তাদের নিজের স্বার্থ লুফে নিচ্ছে আর অবশিষ্ট অংশটুকু লাগামহীন হরতাল ও বিভিন্ন সহিংসতার কষাঘাতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ জনগণের বিনিয়োগ শেষ হচ্ছে শেয়ার বাজারের ধসে। আবার গার্মেন্ট’স কর্মী, কৃষক ও অন্যান্য নিরীহ শ্রমজীবী মানুষ তাদের শ্রম ও উত্পাদনের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনগণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাগরিক দায়িত্ব পালন করলেও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিরাজমান সাংঘর্ষিক আচরণ, ক্ষমতার লোভ ও বিপরীত নীতি দূর করা কেননা জনগণ সরকার গঠন করে দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য, আর সেই কল্যাণের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম যা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর যেমন জরুরি তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী ক্ষমতা গ্রহণের পথটি সুস্পষ্ট করতে হবে। যেহেতু আগামী নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উপায় বের করা আর তা না হলে জনগণের উপর ছেড়ে দেয়া হোক জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পথে নির্বাচন হবে কেননা রাজনৈতিক রোষাণলে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস হতে পারে না । মনিরুল ইসলাম (মনির) অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা সমঝোতার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধীদলসহ সকল দলের সভা সমাবেশ এমনকি মানববন্ধনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পত্রিকা, টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়াকে কি গণতন্ত্র বলে । সরকারের এহেন স্বেচ্ছাচারিতাকে কোন গণতন্ত্র বলা যায়। এমন একটা পরিবেশে, কোন বিশ্বাসে বিরোধীদল এ সরকারের অধীনে কিভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বার বার ১/১১-এর কথা মনে করিয়ে দেন। সে সময়তো শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বিরোধীদল (বিএনপি) তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর অধীনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এত কিছুর পরও যদি বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইতে পারে। তাহলে আওয়ামী লীগের সে সত্সাহস নেই কেন। সরকারি দল বার বার বিএনপিকে সংসদে গিয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এখন দেখা যাবে বিএনপি সংসদে গিয়ে কি কথা বলে আর কথা বলার ব্যাপারে সরকারি দল কতটা সহযোগিতা করে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদলের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর সহাবস্থান অপরিহার্য। এক্ষেত্রে দুই নেত্রীর সদিচ্ছাই যথেষ্ট কিন্তু বাদ সেধেছে দুই নেত্রীর একে অপরের উপর নগ্ন আক্রমণ। এ সহাবস্থানের জন্য আগে দুই নেত্রীর মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যেহেতু অবিশ্বাসের রাজনীতি চলছে তাই নিজেদের মধ্যকার হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে দুই নেত্রী অন্তত সহাবস্থানে আসবেন। সমঝোতার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের। দুই দল সমঝোতায় পৌঁছতে পারলে অন্য কোন শক্তির পক্ষে দেশে অরাজকতা করা সম্ভব নয়। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমরা রাজনৈতিক এ অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাই। মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সারিয়াকান্দী, বগুড়া হিংসা প্রতিহিংসা দিয়ে মানুষ হত্যা ও হরতাল করা সহজ, শান্তির পূর্ণতা পাওয়া সহজ নয় প্রকৃত দেশপ্রেমিক কে বা কারা? দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নতি কার দ্বারা সম্ভব? সরকারি দল না বিরোধীদল? বাংলাদেশের মানুষ এখন উভয় সংকটে পড়ে আছে। জনগণ তাদের জানমালের নিরাপত্তা কারো কাছেই সঠিকভাবে পাচ্ছে না। শান্তির পরিপূর্ণতা দিয়ে যে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকেই শান্তিপূর্ণ কাজ বলা হয়। হ্যাঁ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর শুধু অর্থনীতির পূর্বশর্তই নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনেরও পূর্বশর্ত বলে মনে করি। আমরা কেউ আমাদের নিজের দোষ কখনও খুঁজি না। অন্যের দোষ খোঁজার কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি। ক্রোধ দিয়ে শুধু ক্রোধই সৃষ্টি হবে। দেশকে শান্তিতে পূর্ণতা দিতে চাইলে দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের চাওয়াগুলোর প্রাধান্য দিতে হবে।পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আদালত হচ্ছে মানুষের বিবেক। রক্ত দিয়ে রাজপথ রাঙানো যায়, দেশ সাজানো যায় না। আর একটা কথা আমরা সর্বদায় মনে রাখবো দুনিয়াতে আমরা কাগজের একটা ঘুড়ি মাত্র, যার নাটাই আল্লাহ তায়ালার হাতে। অতএব আমরা যে যতই ওড়া-উড়ি করব বুঝে শুনে করব। মো. সুমন ক্ষমতায় যাওয়ার এই রাজনীতি চলতে থাকলে আমাদের অর্থনীতি অচিরেই মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে একটি রাষ্ট্রের চলার গতি অনেক বেশি মসৃণ হয় যদি তার দায়িত্বে থাকা সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে হয়। আর যখন এই ব্যাপারটি স্বাভাবিক নিয়মে ঘটে এবং রাষ্ট্রও যদি তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে নীতিগত ব্যবস্থা করে তখন তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসার লাভ করে। বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সবকটি রাজনৈতিক দল তাদের এই ক্ষমতা হস্তান্তর ইস্যুতে অনবরত হরতাল দিয়ে যাচ্ছে। যদিও হরতালের নামে এই সাংবিধানিক অধিকারটি এখন অর্থনীতি ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগও সময়ের এই দাবি অগ্রাহ্য করে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এছাড়া এই ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধীদল তাদের দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অনেক অপশক্তির সাথে আঁতাত করছে। এই ঘটনাগুলো তখন ঘটছে যখন বিশ্বের অনেক সংস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার এই রাজনীতি চলতে থাকলে আমাদের অর্থনীতি অচিরেই মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে। সুতরাং আশা করবো, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ক্ষমতায় যাওয়ার এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সাম্লাতে সরকার অনেক বেশি আন্তরিক হবে এবং আলোচনার উদ্যোগে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। ফজলুল করীম রিয়াদ, ৩য় বর্ষ, ৫ম সেমিস্টার, ২৭৩/সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়