মেয়র প্রার্থীদের টার্গেট নগরীর ৬৫১ বস্তির দেড় লাখ ভোট
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
খুলনার বস্তিবাসীদের দেড় লাখ ভোট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত অথবা কেবল স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন এসব ভোটার যার দিকে দৃষ্টি ঘোরাবেন তিনিই হবেন কেসিসির আগামী পাঁচ বছরের মেয়র। দুই হেভিওয়েট আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি তাই বস্তির ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।
সিটি কর্পোরেশন ও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া, নতুন বাজার, মিস্ত্রিপাড়া, মুসলমানপাড়া, বসুপাড়া, বানিয়াখামার, সিমেট্রি রোড, রূপসা, গল্লামারী, চাঁনমারী, বয়রা, রায়েরমহল, বাস্তুহারা কলোনি, ময়ূর নদীর পাড়, সোনাডাঙ্গা, বৈকালী, দৌলতপুর, খালিশপুর ও রেলিগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট বস্তির সংখ্যা ৬৫১টি। যার অধিকাংশই গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি খাস জমির ওপর। এসব বস্তিতে দিন মজুর, পরিবহন শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালক ও মিল-কলকারখানার শ্রমিক মিলিয়ে ৩৯ হাজার ২৪৪টি পরিবার বসবাস করে। সিটি কর্পোরেশনের ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ জন ভোটারের মধ্যে বস্তির ভোটার প্রায় দেড় লাখ। যা মোট ভোটারের প্রায় ৩৫ শতাংশ। এসব বস্তিতে বসবাসকারী দরিদ্র ভোটারদেরকে নগদ অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করে ভোট সংগ্রহ করা হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে কালো টাকা দিয়ে বস্তিবাসীদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। মূলত নির্বাচনের আগের দুই রাতে এসব বস্তিতে চলে টাকার খেলা। এবারের নির্বাচনেও এধরনের আশংকা করা হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধাভোগী বস্তি নিয়ন্ত্রকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। তাদেরকে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। বস্তিগুলোতে তাদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। নির্বাচনে বস্তিবাসীরা প্রার্থীদের টাকা এসব লোকজনের কাছ থেকেই নেন। তবে প্রার্থীদের অধিকাংশ টাকা বস্তির এসব নিয়ন্ত্রণকারীরাই হাতিয়ে নেন। কেসিসি’র তিন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তার সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি’র। অনেকের ধারণা শেষ মুহূর্তে বস্তিবাসীর ভোট সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী খালেকের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বস্তিবাসীর ভোট সংগ্রহে বসে নেই মনিরুজ্জামান মনিও।
আগামী ১৫ জুন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীর ৬ শতাধিক বস্তির প্রায় দেড় লাখ গরীব ভোটারই এখন প্রার্থীদের প্রধান টার্গেট। তাই প্রতিদিন মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন বস্তি থেকে বস্তিতে।
রেলের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তির বাসিন্দা নূরজাহান বলেন, নির্বাচন আসলেই আমাদের দাম বেড়ে যায়। এখন দরদী নেতাদের অভাব নাই। সবাই আমাদের জন্য কাজ করতে চাইছে।
রূপসা এলাকার পানের দোকানদার জুয়েল হোসেন, চা বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, পেটের চিন্তায় সারাদিন ব্যস্ত থাকি। ভোট নিয়ে ভাবছি না। তবে যে নগদ টাকা দেবে তাকেই ভোট দেব। একইভাবে নতুন বাজার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বস্তির সরদার জলিল জানায় তার নিয়ন্ত্রণে ৩শ’ ভোট রয়েছে। জেতার পর তো কেউ খোঁজ নেবে না তাই যে বেশি টাকা দেবে তাকেই ভোট দেব।
এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বস্তিবাসীদের ভোট যাতে কেনাবেচা না হয় সে দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। তানা হলে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে না।
অপর মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক দাবি করেন, শহরের দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ তার পক্ষে। তাই তারা তাকে ভোট দিতে ভুল করবেন না।