রোহিঙ্গাদের হাতে মেশিন রিডেবল জাল পাসপোর্ট!

এবার জাল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যোগাড় করে বিদেশ যাবার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা! এর আগে জাল ভিসায় রোহিঙ্গারা বিদেশে যেতো। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে জাল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টসহ রোহিঙ্গা গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এ ধরনের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নিয়ে আরো অনেক রোহিঙ্গা বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শাহজালাল বিমান বন্দরে জাল পাসপোর্টসহ ৭৭ জন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে। গত বছর বিমান বন্দরে প্রায় ৫০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ। তারা গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। পরে আবার বাংলাদেশি নাগরিকের ছদ্মবেশে একই চেষ্টা চালাচ্ছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট জাল করে রোহিঙ্গারা বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিমান বন্দরের সকল সংস্থা এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। ইতোমধ্যে জাল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টসহ কয়েকজন রোহিঙ্গা গ্রেফতার হয়েছে। তবে বেশিরভাগ জাল পাসপোর্টই হচ্ছে বিদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া অন্য কারো আসল পাসপোর্ট। বিমান বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের ১ অক্টোবর এয়ারপোর্টে গ্রেফতার রোহিঙ্গা শাহ আলম (৪৫) পুলিশকে জানায়, কুমিল্লার মুরাদনগরের আলম ব্যাপারীর মাধ্যমে তিনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। মেশিনে রিড করার পর দেখা যায়, এ পাসপোর্টটির আসল মালিক ঢাকার ধামরাইয়ের আরফান আলী। আরফান আলী মালয়েশিয়ায় যাবার পর তার পাসপোর্টটি মালয়েশিয়া থেকে আলম ব্যাপারীর কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। অপরদিকে, আরফান আলী মালয়েশিয়ায় ‘পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে’ মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে তিনি আরেকটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, তার বিক্রি করে দেয়া পাসপোর্টে আরফান আলী নাম অবিকল রেখে শাহ আলমের ছবি স্থাপন করা হয়। এ পাসপোর্ট দিয়ে শাহ আলম মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আরফান আলী নামে তাকে আটক করে। প্রতারক চক্র এতটাই দক্ষ যে, মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের ওপর লাগানো ছবিও তারা নিখুঁতভাবে বদলে ফেলছে। পারছে না কেবল ভেতরের ডিজিটাল তথ্য বদলাতে। হযরত শাহ জালাল বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন শাখার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে অনেক সময় জাল ভিসাও লাগানো থাকে। রোহিঙ্গা সদস্যদের চেহারা দেখার পর সন্দেহ হয়। কারণ তাদের চেহেরার সঙ্গে চাকমাদের মিল রয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যবহূত জাল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে সাধারণত সমতল এলাকার ঠিকানা (পাসপোর্টের আসল মালিকের ঠিকানা) থাকে। এ কারণে পাসপোর্টের ঠিকানা যাচাই করার পর রোহিঙ্গা সদস্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বললে প্রথমেই তাদের ভাষা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মতো মনে হয়। অনেকের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা আয়ত্তে থাকার কারণে বোঝার উপায় থাকে না তারা বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা। দৈহিক আকার-আকৃতি ও ভাষাগত মিল থাকার কারণে বিদেশগামী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করতে প্রথমে গোয়েন্দাবৃত্তি চালানো হয়। এরপর নিশ্চিত হতে হয় যে তারা রোহিঙ্গা। এসব জাল পাসপোর্টের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, দুবাই, ওমান ও কাতারে যাওয়ার চেষ্টা করে।