বাদাম বিক্রি করে চলে রাজনের পড়াশোনা
গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:১৮
বাবার সংসারে ঠাঁই হয়নি। মা আর ছোট ভাইকে নিয়েই রাজনের (১২) সংসার। তার পরও থেমে থাকেনি পড়া-লেখা। সংসার আর পড়ালেখার খরচ যোগাতে একবেলা বাদাম বিক্রি করতে হয় রাজনকে। এভাবে চলছে রাজনের জীবন...। রাজনের বাবা পেশায় কুলি। গুরুদাসপুর পৌর শহরের খলিফাপাড়ায় তাদের বাস। একটুকরো ভিটেমাটিতে দু’টি টিনের ছাপড়া ঘরে তারা থাকে। রাজন যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তখন বাবা তফিজ দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করে। বিপাকে পড়েন রাজনের মা রেজেনা খাতুন। কারণ রেজেনার কোলে আরেক শিশু রাহুল (৪)। রাজন আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সংসার আর পড়ার খরচ চালাতে শুক্রবারসহ শনিবার ও মঙ্গলবার শহরের চাঁচকৈড় বাজারে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করে। অন্যদিনে একবেলা স্কুল আরেক বেলায় বাদাম বিক্রি করে থাকে। বাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা আয় হয়। ওই টাকা মায়ের হাতে তুলে দেয়। তবে ছোটভাই রাহুল নিয়মিত স্কুলে যায়। সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। এদিকে সংসার চালাতে মা রেজেনা খাতুন মাঠে দিন-মজুরির কাজ করে। রাজন বলে, দুই ভাই পড়ালেখা শিখে মায়ের কষ্ট লাঘব করবে। রাজনের স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আফতাবউদ্দিন জানান, রাজন অনিয়মিত হলেও পড়ালেখায় ভাল। তার ছোটভাই রাহুলও মেধাবী। স্কুলের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হয়।