রোপা আউশ পানির নিচে দিশেহারা বরগুনার কৃষক
বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:২০
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের পর টানা ভারী বর্ষণ ও বাঁধ ভাঙা জোয়ারের পানিতে বরগুনায় ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ প্লাবিত হয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় এসব মাঠে চাষ করা রোপা আউশের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মৌসুমে আমনের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা আউশ পানিতে তলিয়ে আছে।
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্য মতে এবছর জেলার ৪৯ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ১৭ হাজার ৫৯১ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ করা হয়। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির রোপা আউশের চারা পানিতে তলিয়ে আছে। রোববার সদর উপজেলার বদরখালী, বুড়িরচর, নলটোনা, নিশানবাড়িয়া ও বালিয়াতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ওইসব এলাকার আউশের ক্ষেত এখনও হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে আছে। একইভাবে আমনের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত। এসব জমির অধিকাংশ রোপা আউশের ও আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সদর উপজেলার দক্ষিণ বদরখালি এলাকার কৃষক পনু মিয়া বলেন, দু’একর জমিতে রোপা আউশ চাষ করেছিলাম। ঘূর্ণিঝড়ে চারার খেতি অইছে, হেরপর জোয়ার আ বইষ্যার পানিতে খ্যাত যে ডোবযে ১৫ দিনেও আর চারার মাতা (ডগা) দেহি নায়। এবার আর মোর আউশ গরে (ঘরে) ওডবেনা। একই এলাকার কৃষক আবদুল হালিম, মিলন ও আনসারের ক্ষেতেরও একই অবস্থা। পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা গ্রামের নিজাম আকন বলেন, আমনের জন্য বীজ বুনছিলাম। সব বীজ পানিতে তলাইয়া নষ্ট অইয়া গ্যাছে। এহন আর ঘরে বীজ নাই যে আবার বুনামু। এমবালিয়াতলী এলাকার সেলিম মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের যে ক্ষতি কইর্যা গ্যাছে হ্যা কাডাইয়া ওডারও উপায় নাই। আবার বাঁধ ভাইঙ্গা পানি আইয়া মোগো আউশের চারা, আমনের বীজতলা পানিতে ডুবাইয়া রাখছে। পানি কমনেরও উপায় নাই। খাল ভরাট অইয়া গ্যাছে।
উপকূলীয় কৃষি ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ডোক্যাপের পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, মূলত দীর্ঘদিনে স্লুইজ সংস্কার না করা ও অপরিকল্পিত স্লুইজ নির্মাণ ও খাল খননের অভাবে একদিকে আউশ মৌসুমে যেমন পানির সংকট, তেমনি পরবর্তিতে অতিরিক্ত পানির কারণে এ অঞ্চলে আউশের চাষ ব্যাহত হচ্ছে। আমনের বীজতলা আরও কিছুদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকলে আবার বীজের সংকট দেখা দিতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ লুত্ফর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও পরবর্তী জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানিতে পচে বরগুনা জেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমির রোপা আউশ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে আছে। শীঘ্র পানি না কমলে এসব বীজ নষ্ট হওয়ার আংশকা রয়েছে।