শেরপুরে টিলা কেটে হচ্ছে বসতি!

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

শেরপুর প্রতিনিধি ও শ্রীবরদী সংবাদদাতা

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় নির্বিচারে পাহাড়ি টিলা কেটে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ভূমি ধস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিমত। বিশেষত শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের বাবেলাকোনা, হারিয়াকোনা ও চান্দাপাড়া নামক এলাকায় এর বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। সেখানে উঁচু পাহাড়ের খাড়া টিলা কেটে দীর্ঘদিন থেকে এক শ্রেণির লোক ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে।

পাহাড়ি টিলা কেটে বসত নির্মাণকারী চান্দাপাড়া গ্রামের মৃত মোজাফফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি হারুন মিয়ার কাছে আশি হাজার টাকার বিনিময়ে ৪০ শতাংশ জমির দখল কিনে এখানে বসতবাড়ি করেছি। পাহাড় কাটা আইনত নিষেধ সত্ত্বেও পাহাড় কেন কেটেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা গরীব মানুষ জায়গা সম্পত্তি নেই, তাই পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করেছি। শুধু আমি না এখানে প্রায় ৪০-৫০টি পরিবার রয়েছে, তারা সবাই পাহাড় কেটে বসতবাড়ি করেছে।

একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ. জুব্বার বলেন, আমরা স্থানীয় মৃত মাহমুদের ছেলে আছলামের কাছ থেকে দুই লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা দিয়ে ২৫ শতাংশ জমির দখল কিনে বাড়ি করেছি। এভাবে একটি চক্র পাহাড় দখল করে পাহাড়ের টিলা কেটে বসতবাড়ি নির্মাণের উপযোগী করে অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সিংগাবরুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. রেজ্জাক মজনু বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

সহকারী বন সংরক্ষক প্রাণতোষ রায় বলেন, পাহাড় কাটা ঠিক নয়, তবে কেউ বসতবাড়ি নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে তিনি সম্প্রতি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে নিয়ে ঐ সব এলাকা পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছেন। এমনকি সেখানে আধাপাকা বাড়িও দেখেছেন। পাহাড়ি টিলা কেটে বসতি নির্মাণকারীদের অবিলম্বে বনভূমি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রয়োজনে পাহাড়ে বসবাসকারী প্রকৃত ভূমিহীনদের অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।