বেড়িবাঁধে ভাঙন : মঠবাড়িয়ার হাজারো পরিবার গৃহহীন
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৪৮
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বলেশ্বর নদ তীরবর্তী বেড়িবাঁধে অব্যাহত ভাঙ্গনে কয়েক হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। খেতাছিড়া বেড়িবাঁধে আশ্রিত চল্লিশোর্ধ্ব জেলে কামাল চাপরাশী সিডরের জলোচ্ছ্বাসে প্রথমবার গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন ২০০৭ সালের ২৫ নভেম্বর। তখন তার বসতঘর ছিল নদ লাগোয়া বেড়িবাঁধের বাইরে। এরপর গৃহহীন এই জেলে বাঁধের ভিতরে বসতি গড়েন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় বাঁধের দেড় কিলোমিটার অংশ ধসে গেলে তিনি দ্বিতীয় দফায় গৃহহীন হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিধ্বস্ত বাঁধটি মাটি দিয়ে কোনমতে মেরামত করে। দুই দফা জলোচ্ছ্বাসে ঘর হারানো জেলে কামাল আবার নতুন করে বসতি গড়েন মেরামত করা সেই বাঁধে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ছোবল হানে উপকূলে। বলেশ্বর নদের পানি বৃদ্ধি পায়। প্রবল স্রোতের চাপ আর ভারি বৃষ্টিপাতে মেরামত করা সেই বাঁধে ধস নামতে শুরু করে। গত রবিবার দুপুরে বাঁধের ভাঙ্গন ও জোয়ারের পানিতে জেলে কামালের ঘর ভেসে গেলে তৃতীয় দফায় সে গৃহহীন হয়। রবিবার দুপুরে ঝড় জলের সঙ্গে যুদ্ধ করা মানুষটি বাঁধের টিকে থাকা অংশের উপর একটি কুঁড়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কথা হলো তার সঙ্গে। জানালেন, ‘খেতাছিড়ার এই বাঁধ এর আগে যহন ধইস্যা গেছিল তহন মোরা কইছিলাম বাঁধ নদীর পাড় দিয়া সরাইয়া আরও ভিতরে দ্যান। সরকারি লোকজন মোগো কতা হোনে নাই। হ্যারা ভাঙা বাঁধের উপর কোন মতে মাডি হালাইয়া কাম সারছে। হেই জায়গা দিয়াই অহন আবার বাঁধ গাঙে ধইস্যা যাইতে আছে। এইরহম অইলে মোরা যামু কই?’
সাম্প্রতিক জলোচ্ছ্বাসে শুধু কামালই নন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোরা, কচুবাড়িয়া ও খেতাছিড়া বেড়িবাঁধে আশ্রিত জেলে পল্লীর অন্তত দেড় হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই বাঁধের ভাঙ্গন বাড়ছে। নতুন নতুন পরিবার গৃহহীন হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঠবাড়িয়া উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাওহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাঁধের কিছু অংশ নদী লাগোয়া হওয়ায় তা সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে সেখানে প্রায় ধস দেখা দেয়। নতুন করে মেরামতের বরাদ্দ এখনো মেলেনি। তবে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।