চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে শিল্প কারখানা
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৪৯
চট্টগ্রামে অসংখ্য বিল্ডিং প্ল্যান বহির্ভূত কাজে ব্যবহার হচ্ছে। সিডিএ থেকে গৃহীত আবাসিক ভবনের প্ল্যানে নির্মিত বিল্ডিংয়ে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে এসব বিষয় তদারকি করার দায়িত্বে নিয়োজিত সিডিএ’র কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনিয়ম ও অভিযোগের পরেও সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোন মামলা নেই।
চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক ও শিল্প-কারখানার ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। ভবন মালিকরা বেশি লাভের জন্য নির্মিত ভবন অন্যকাজে ভাড়া দিচ্ছেন। এককালীন বিপুল টাকা ও চড়া মূল্যে মাসিক ভাড়া আদায় করছেন তারা। ভবন মালিকদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত। আবাসিক ভবন নির্মাণের প্ল্যান নিয়ে অনেকেই শিল্প-কারখানার জন্য বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্ল্যান পাসে গরমিলের কারণে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবাসিক ভবন গার্মেন্টস, শিল্প-কারখানা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ হালকা ও ভারি কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শহরে কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় ‘অথরাইজেশন অফিসারে’র দু’টি পদ সৃষ্ট করা হয়েছে। তারপরও অনিয়ম কমছে না। কাজের সমন্বয়হীনতায় অভিযোগ উঠেছে। অথরাইজেশন অফিসাররা ইমারত নির্মাণ আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। প্রতিদিন এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে এবং মামলাও হচ্ছে। কিন্তু অথরাইজেশন অফিসাররা মামলাগুলো সিডিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান না। অভিযুক্তরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। দুই অথরাইজেশন অফিসারের কাছে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজার মামলা রয়েছে। অথচ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোন মামলা নেই। সিডিএ অথরাইজেশন অফিসার প্রকৌশলী শামীম জানান, ইমারত আইনে বিভিন্ন মামলা হয়ে থাকে। অনেক মামলা উচ্চ আদালতেও রয়েছে। যেগুলো প্রয়োজন তা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সিডিএ’র বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন. ‘অথরাইজেশন অফিসারদের কাছে কয়েক হাজার মামলা রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে কোন মামলা পাঠান না তারা। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। যেসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে।’ ইমারত নির্মাণ আইনে দোষীদের সর্বোচ্চ ৭ বছর জেল ও সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। অথচ মাঝে-মধ্যে কিছু জরিমানা হলেও এই পর্যন্ত কারো জেল হয়নি। দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের কারণে অভিযুক্তরা রেহায় পেয়ে যাচ্ছেন।
নগরীর ভবনগুলোর কাঠামো ঠিক আছে কি-না এবং ইমারত আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করছে সিডিএ। তবে তদন্ত কাজে ধীরগতির অভিযোগ। অনদিকে, কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিদর্শক জানান, আবাসিক ভবনের প্ল্যানে নির্মিত অসংখ্য ভবনে গার্মেন্টস শিল্প খাতে ব্যবহার হচ্ছে। আবাসিক এলাকাগুলোতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে আবাসিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।