বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনসমূহের তত্পরতা পর্যাপ্ত নয়
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৩, ২৩:৫৪
দক্ষিণাঞ্চলীয় পশ্চাত্পদ এলাকার ততোধিক অবহেলিত জেলা হিসেবে পিরোজপুরের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমূহের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু সংগঠন গড়ে উঠে। যার মধ্যে অন্যতম পথিকৃত হচ্ছে- ইস্কান্দার ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন (ইডব্লিউএফ)। যার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুস সালাম তালুকদার এডভোকেট। এ যাবত্ শিক্ষায় এ এসটি একাডেমি, নুরুন্নেছা কিন্ডারগার্টেন, ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বেসরকারি ক্যাডেট কলেজ ও স্বাস্থ্যে আমিয়া হাসপাতাল স্থাপন করে সংস্থাটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। এছাড়া তাদের রয়েছে পিকেএসএফের সহায়তায় আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি। জেলার শীর্ষ এনজিও ডাক দিয়ে যাই, যার নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহজাহান গাজী। দক্ষিণাঞ্চলব্যাপী সংস্থার কর্ম এলাকা। পল্লী ক্ষুদ্র ঋণ দান কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সিডর পরবর্তী পুনর্বাসন- রি-কল প্রজেক্ট, স্বাস্থ্য-পুষ্টি বিষয়ক স্পিরিট প্রকল্প, ওয়াটার এন্ড সেনিটেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শামীমা রানীর নির্বাহী পরিচালনায় সকলের জন্য কল্যাণ- শিক্ষা কার্যক্রম, ঋণ দান, নিরাপদ পানি ও সেনিটেশন, নারী ও শিশু অধিকার, মত্স্য চাষ প্রকল্প পরিচালনা করে। পিরোজপুর গণ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান। তারা স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে মাঝে ঋণ দান পরে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করা, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ করা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, নারী পুরুষের সমতা উন্নয়ন কাজ করে থাকে। রফিকুল ইসলাম পান্নার নির্বাহী পরিচালনায় পিডিএফ- নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, প্রোমোটিং জেন্ডার জাস্টিস, উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কাজ করে থাকে। মইনুল আহসান মুন্নার পরিচালনায় রয়েল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ক অধিকার ভিত্তিক কাজ, জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর অধিকার ও নারী পুরুষের সমতার আন্দোলন, দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে কাজ করে আসছে। এছাড়াও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে আরো যারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে কাজ করে- উপক-নির্বাহী পরিচালক কে এম ফরিদুল ইসলাম, প্রত্যাশা-নির্বাহী পরিচালক-মোঃ নাসিম উদ্দীন খান, উপকার-নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহীন তালুকদার, বন্ধন- নির্বাহী পরিচালক এইচ এম জসীম উদ্দীন, অন্বেষা ফাউন্ডেশন ও পদক্ষেপ (নাজিরপুর), সিএসডি, উদ্যম ও আরডিএস (স্বরূপকাঠী), সুন্দরবন বহুমুখী গ্রামীণ প্রকল্প (মঠবাড়িয়া), রূপসী বাংলা ও নূরজাহান কল্যাণ সংস্থা (জিয়ানগর), সুখ, দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থা, সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, গণমুক্তি ও পরাগ (ভান্ডারিয়া), ডিডিএস ফাউন্ডেশন (কাউখালী) অন্যতম।
জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের এনজিওর মধ্যে পিরোজপুরে কাজ করে ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, রিক, উদ্দীপন, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিক, স্টেপস, ইনসিডিন বাংলাদেশ, মুসলিম এইড, ওয়াল্ড ভিশন, কোডেক, আভাস ইত্যাদি । এদের সকলেরই কার্যক্রম পরিচালনায় আইনগত বৈধতা গ্রহণে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী, এনজিও ব্যুরো, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতো এক বা একাধিক অথরিটি/অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত। প্রতিমাসে এসকল সংগঠনের আঞ্চলিক প্রধান/প্রধানদের সাথে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভা হয়ে থাকে। কার্যক্রমের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়। পিরোজপুরে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন সমূহের কাজ সমন্বয় সাধনের জন্য পূর্বে এনজিও ফোরাম গতিশীল ভূমিকা রাখলেও এখন তা নিস্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। এর বাইরে ৫টি সংগঠন নিয়ে সিডিআই নেটওয়ার্ক ও ১৪টি সংগঠন/নাগরিক প্রতিনিধি নিয়ে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান- সুপ্র নেটওয়ার্কেও মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করে আসছে। এতো সংগঠনের কাজকে একত্রিত করলেও অন্য যে কোন জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে পিরোজপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের কর্মকাণ্ড খুবই নগণ্য পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিচারেও যা কাঙ্খিত তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের অভিমত।