ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি

নতুনের যাত্রা

আয়োজনটা ছিল ক্ষণিকের। কিন্তু কে জানতো মুহূর্তের এই আয়োজন এক সময় বড় আকারের রূপ নেবে! নাচ, গান, কবিতা, ফ্যাশন শোও ছিল। সূচি থেকে বাদ যায়নি কিছুই। চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে সমপ্রতি হয়ে গেল জমজমাট নবীনবরণ অনুষ্ঠান। সামার সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া একঝাঁক তরুণ-তরুণীকে আপন করে নিতে ভালোবাসায় ভাসলেন ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকরা। তাসনিয়া জাহির আর সুমাইয়া মেহজাবীনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় শুরু হয় সেদিনের অনুষ্ঠান। কি ছিল না তালিকায়? মুহুর্মুহু করতালিতে পুরো অডিটোরিয়াম যখন পূর্ণ, তখনই মঞ্চে হাজির হলেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সিকান্দার খান। তিনিও শামিল হলেন ছাত্রদের সঙ্গে। আবৃত্তি করলেন প্রিয় কবিতা সোনার তরী। ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান দরাজ গলায় গেয়ে শোনালেন ওরে নীল দরিয়া। রেজিস্ট্রার আরিফ মাহমুদ খান মনে করিয়ে দিলেন কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে। শিক্ষক রাফিয়া ম্যাডামের তানপুরা সত্যিই কি বাজে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল সবার। তবে নাহিদ স্যারের গান সবাইকে মুগ্ধ করেছে। প্ল্যানিং হেড শাফায়াত কবীর শোনালেন মজার অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্বে ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনা। ব্যান্ডের গানে শ্রোতাদের সাগরে ভাসালো এফএনসি, উন্মাদ আর ক্রায়নিক্স। রকি আর মৌর গানও ভালো লেগেছে সবার। জায়েদ জোবায়েরের ডিজে একটু পরপরই চাঙ্গা করছিল সবার মন। নাচ পরিবেশন করে হাততালি জুটান ফাতেমা, ফাহিমা, প্রদীপ্তদা, তাজিমা, সাকিব, তাসনিয়া, আনিকা, সানজিদা ও রাজিয়া। ইমরান আর রহমার কবিতা সবাইকে ভাবিয়েছিল কিছুক্ষণ। মালিহা বিভাগের প্রিয় শিক্ষক রাফিয়া ম্যাডামকে নকল করে তার স্নেহধন্য হলেন। ফ্যাশন শো ছিল চোখে পড়ার মতো। শাওন শিকদারের ‘নিটোল পায়ে’ মনে করিয়ে দেয় গ্রামের সুশ্রী মেয়েটির কথা। পুরো আয়োজনটির সঙ্গে ছিলেন রাফিয়া ম্যাডাম, আসাদ আর ইশতিয়াক স্যার। ডেইজি ম্যাডামের সহযোগিতাও ভোলার নয়। অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে প্রধান সমন্বয়ক শিক্ষক রাশেদ আল করিম বলেন, ‘ইস্ট ডেল্টা একটি পরিবারের মতো। এখানে ছাত্র- শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। যারা নতুন এসেছে তাদেরকে বরণ করে নিতে আয়োজনটি করা হয়েছিল। আগামীতে এরচেয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করার চিন্তা-ভাবনা করছি আমরা। আমি চাই নতুনরা এখান থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।’