উদ্ভা ব ন

এক ধানে দুই চাল!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমান গবেষণা চালিয়ে একটি ধানগাছের একটি শীষে যমজ ধান (এক ধানে দুই চাল) উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন। অ্যাগ্রোনমি বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘কমপারিসন অব গ্রোথ অ্যান্ড ইয়েল্ড পারফরম্যান্স বিটুইন টুইন রাইস অ্যান্ড বিরি ধান-২৮ থ্রো দ্য অ্যাপ্লিকেশন অব ম্যাজিক গ্রোথ অ্যান্ড ইউরিয়া টু গেট হায়ার ইয়েল্ড’। সফলতা অর্জনের পর তিনি এ জাতের ধানের নাম দিয়েছেন- ‘টুইন রাইস’। গবেষণা কর্মটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ও কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আমিনুল হক। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. আমিনুল হক জানান, বছরখানেক আগে পত্রিকার খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন, দিনাজপুরের এক কৃষক তার জমিতে প্রথম যমজ ধানের দেখা পান। পরে তিনি স্থানীয় কৃষিবিদদের জানালে, বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের নজরে আসে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর পড়ে ড. আমিনুল হক ওই কৃষকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম যমজ ধান সংগ্রহ করে আনেন। পরে তিনি তার তত্ত্বাবধানে হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনা করেন। ছয় মাস পরেই একটি ধান গাছের ডগায় যমজ ধান উত্পন্ন করতে সক্ষম হন তারা। অধ্যাপক ড. আমিনুল হক বলেন, ‘যমজ ধানের ক্ষেত্রে (ফ্লোয়ারিং) এক ফুলের দু’টি অভ্যুল থাকে। এই দু’টি অভ্যুল একসঙ্গে নিষিক্ত হয়ে দু’টি গ্রেইন উত্পাদন করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনটিও দেখা গেছে। একে ‘বহুভ্রুণিতা’ বলা হয়। ভবিষ্যতে ধানের ক্রোমোজোম স্টাডি করে এর আসল রহস্য উদ্ভাবন করা হবে। কীভাবে এর সর্বোচ্চ ফলন বৃদ্ধি করা যায়, সেই চেষ্টাও করা হবে।’ গবেষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু যমজ ধান ভালো ফলন দিচ্ছে, এছাড়া এটি পানির জলবদ্ধতায়ও জন্মে এবং এর চালের মানও ভালো, সেহেতু এটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে গবেষণা করা দরকার।’