আমানত ও ঋণের সুদহার ব্যবধান কিছুটা কমেছে

ব্যাংকিং খাতে আমানতের সুদহার ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল শেষে সবগুলো ব্যাংকের গড় স্প্রেড চার দশমিক ৯৯ শতাংশে নেমে এসেছে। গত মার্চে যা ছিল পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ। তবে স্প্রেড পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি যে নির্দেশনা রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। এপ্রিল শেষের হিসাবে দেখা গেছে ২৪টি ব্যাংক এ নির্দেশনা মানেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমানতের সুদের থেকে ঋণের সুদের হারের পার্থক্য পাঁচ (অর্থাত্ পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট)-এর মধ্যে থাকতে হবে। যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আলোকে ঋণ ও আমানতে সুদহার নির্ধারণ করতে পারে। তবে নৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের সুদহার কমানোর লক্ষ্যেই ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়। গত জানুয়ারিতে ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করে গভর্নর বলেছিলেন, মার্চের মধ্যে নির্দেশিত সীমার মধ্যে স্প্রেড হার নামিয়ে না আনলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া সে সময়ের এক মাস পার হয়ে গেলেও ২৪ ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের উপরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রাহকদের কাছ থেকে গড়ে আট দশমিক ৬৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছে। আর ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গড়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। এপ্রিল শেষে বিদেশি নয় ব্যাংকের গড় সেপ্রড আট দশমিক ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও হাবিব ব্যাংক বাদে অন্য ছয় ব্যাংক স্প্রেড সংক্রান্ত নীতিমালা মানছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ওরি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। উভয়ের স্প্রেডের পরিমাণ নয় দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া সিটি ব্যাংকের আট দশমিক ৮৫ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের আট দশমিক ৩৯, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ছয় দশমিক ৩১ এবং ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেডের পাঁচ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। বেসরকারি ৩০ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড ব্র্যাক ব্যাংকের। এ ব্যাংকের নয় দশমিক ১৯ শতাংশ। এছাড়া ডাচবাংলা ব্যাংকের আট দশমিক নয়, এবি ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ১৪, ন্যাশনাল ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ২৮, দি সিটি ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৯৬, ইউসিবিএলের পাঁচ দশমিক ১৯, পূবালী ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ২১, উত্তরা ব্যাংকের ছয় দশমিক এক, ইস্টার্ন ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৩৮, প্রাইম ব্যাংকের ছয় দশমিক ৪৬, ঢাকা ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৫৮, এসআইবিএলের পাঁচ দশমিক ৭১, ওয়ান ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৬০, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ১৭, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ছয় দশমিক ৪৮ ও যমুনা ব্যাংকের স্প্রেড ছিল পাঁচ দশমিক ৯৬ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ দশমিক শূন্য তিন এবং বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ দশমিক ৫৭ শতাংশীয় পয়েন্টে ছিল। আলোচ্য সময়ে অন্যান্য ব্যাংকের স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল।