গল্প নয় সত্যি

তিন দু’গুনে ছয়!

ক্যারেন রজার আর তার স্বামী কলিন দুজনেরই বয়স চল্লিশের কোটা পেরিয়েছে। তাদের ঘর আলো করে এসেছে চার চারটি পুত্র সন্তানও। সবমিলিয়ে দাম্পত্য জীবন কিংবা পরিবারের কোনো কিছু নিয়েই মনে কোনো খেদ ছিল না কারও মনে। কিন্তু চারটি সন্তানের পর কী ভেবে যেন শেষবারের মতো আরও একটি সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্যারেন ও কলিন দম্পতি। এর পেছনে একটা মেয়ে সন্তানের আকাঙ্খাও হয়তো ছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কিছুদিন পর ক্যারেন যখন তার স্বামী কলিনকে যমজ মেয়ে শিশু গর্ভে ধারণের খবরটি জানান তখন বিষয়টি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কলিন। এমনকি সে সময় কাজের প্রয়োজনে দূরে থাকা কলিন স্ত্রীর এই বার্তা পেয়ে বিষয়টিকে প্রথম প্রথম নেহাত রসিকতাও ভেবেছিলেন। বিষয়টা এমন নয় যে, এই পৃথিবীতে কারও কখনও যমজ মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়নি। আবার চল্লিশের পর যমজ সন্তান জন্ম নেওয়ার উদাহরণও চিকিত্সা বিজ্ঞানে ঢের আছে। তবে কলিনের অবিশ্বাসের কারণটিও যে অযৌক্তিক ছিল না সেটা বুঝা যায় এই দম্পতির আগের ইতিহাসটুকু জানলে। গল্পের শুরুতে ক্যারেন ও কলিন দম্পতির যে চার ছেলের কথা বলা হয়েছিল তারা সবাই যে ছিল যমজ। আর যেখানে প্রতি পাঁচ লাখের মধ্যে একজন মায়ের কোলে পর পর দু’বার যমজ সন্তান আসার সম্ভাবনা থাকে সেখানে পর পর তিনবার সন্তান প্রসবে তিনবারই যমজের দেখা মেলা সম্ভাবনার নিক্তিতে একেবারে তুচ্ছই বলা চলে। অথচ প্রায় অসম্ভব এই সম্ভাবনাকে সম্ভব করেই সম্প্রতি সুস্থ ও স্বাভাবিক দুই যমজ কন্যা সন্তানের (রোয়ান ও ইসলা) জন্ম দিয়েছেন ক্যারেন রজার। এর আগে প্রায় চৌদ্দ বছর আগে ক্যারেন ও কলিনের কোল আলো করে আসে তাদের প্রথম দুই যমজ ছেলে এবং এর ঠিক দুই বছর পর জন্ম হয় আরও দুই যমজ পুত্র সন্তানের। আর এভাবে পর পর দুই বার যমজ সন্তান প্রসবের কারণেই এবার আরও একবার যমজের মুখ দেখার কথা ঘুনাক্ষরেও ভাবেননি ক্যারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগের দু’বারের ঘটনার কারণেই এবারের এই বিষয়টি ঘুনাক্ষরেও আমার মাথায় আসেনি এবং আমি যখন ডাক্তারের কথা শুনে আমার স্বামীকে বিষয়টি জানাই তখন সেও এটা বিশ্বাস করতে পারছিল না। তবে আমার চিন্তা পাঁচ পাঁচজন অভিভাবক (বাবা ও চার ভাই)কে টেক্কা দিয়ে কে-ই বা আমার মেয়েদের সাথে সম্পর্ক গড়তে বা তাদের বন্ধু হতে আগ্রহী হবে!’