বিবিয়ানায় চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:২৯
তিন হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানায় ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করা হবে। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) দুই হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ঋণ, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ১৪১ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ৮৫৬ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টটি বাস্তবায়িত হবে। বিবিয়ানায় আবিষ্কৃত গ্যাসের কার্যকরী ব্যবহার, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এবং বিদ্যুত্ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও নির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন নামের অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের ৪০টি উপজেলায় ৫৪৪ কি.মি. সড়ক নির্মাণ ৪৭৬৭ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ ও ১৯ লক্ষ ঘনমিটার মাটির কাজ করা হবে। এছাড়া ২০টি হাটবাজার/গ্রোথ সেন্টার ও ২৬টি ঘাট উন্নয়ন করা হবে। জুলাই ২০১৩-জুন ২০১৮ মেয়াদে ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
অন্যদিকে সভায় “বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক দুটি প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর ফরিদপুরের (ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ) উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের সড়ক উন্নয়ন, সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রোথ সেন্টার/হাটবাজার উন্নয়ন ও বোট ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দু’টি প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম আরো জানান, গতকালের সভায় মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এতে ৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হল, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এর কার্যক্রম সমপ্রসারণ শীর্ষক প্রকল্প, ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাট বিষয়ে মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্প, ১৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নাটোর সড়ক হতে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এবং ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ একনেক -এর অন্য সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।