রাজধানীর পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:২৯
যেকোন মূল্যে রাজধানীর পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য পরিবেশ অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এদিকে জরুরি অবস্থায় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম অর্থ বছরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে রাজধানীর পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা পরিবেশ রক্ষার জন্য গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এখন থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশ দূষণের জন্য মূল্য দিতে হবে। কমিটি যেকোন মূল্যে ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এদিকে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয় থেকে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের ব্যাপারে ১৪টি আপত্তি করা হয়েছে। এসব আপত্তি নিয়ে কমিটির নিকট যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে তা নিয়ে গতকাল বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সামাজিক বনায়নের কাঠ থেকে বিক্রির ১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়নি। যা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির ওপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বণ্টনে মাত্রাতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। আর এ কারণে উপকারভোগীরা উত্সাহ হারাচ্ছেন। দুর্বল বনায়ন পরিকল্পনা অর্থাত্ উপকারভোগীদের সংগঠিত করার আগেই বনায়ন করার কারণে ৮৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসব বিষয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ সিএজির মাধ্যমে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জন মনিটর করার জন্য প্রয়োজনীয় ডাটাবেজ তৈরি হয়নি। এয়ার কোয়ালিটি প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কোন দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। ঢাকা শহর সংলগ্ন নদীর দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতর কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বন ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
কমিটি এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দফতরের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের সক্ষমতা বাড়ানো এবং মনিটর জোরদার করার সুপারিশ করেছে।
এছাড়া যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, এম কে আনোয়ার, ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, খান টিপু সুলতান এবং নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সিএজি মাসুদ আহমেদসহ সিএন্ডএজি কার্যালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।