পিতা-মাতার ওষুধ থেকে শিশু অসুস্থ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:৩০
প্রত্যেক পরিবারে এমন কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নেই যিনি কোন না কোন ধরনের ওষুধ সেবন করেন না। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ মহিলা-পুরুষদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, কোলেস্টেরল, মানসিক চাপ এমনকি শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেইন কিলার ওষুধ পর্যন্ত অনেককে সেবন করতে হয়। আর কৌতূহল বশত: এ ধরনের ওষুধ শিশুরা সেবন করে থাকে অনেক ক্ষেত্রে। এতে শিশুদের নান ধরনের শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি থাকে। এমন একটি ব্যতিক্রমী এবং অতি জরুরি গবেষণা তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হারভার্ড স্কুল অব মেডিসিন। গবেষক ড. লিন্ডসে বার্জাড ও ড. ফ্লোরেন্স বুরজিওজ উল্লেখ করেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিনিয়ত শিশুরা বড়দের ওষুধ সেবন করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বোস্টন চিলড্রেন হসপিটালের তথ্যমতে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বড়দের ওষুধ সেবনে শিশুদের বিষক্রিয়ায় হার শতকরা ৩৬ ভাগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন শিশুরা প্রাপ্ত বয়স্কদের ওষুধ সেবনে শুধু অসুস্থ হচ্ছে তাই নয়, বরং তাদের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ২০১১ সালের সিনসিনাটি চিলড্রেন হাসপাতালের চিত্র আরও ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, জরুরি বিভাগে আনা ৫ বছর ও তার কম বয়সী শিশুদের শতকরা ৫৫ ভাগ মেডিকেসন পয়জনিং জনিত কারণে এসেছে। যাদের ৪৩ ভাগ শিশুর ইনটেনসিভকেয়ার ইউনিটে চিকিত্সা নিতে হয়েছে। ইউএস সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন)-এর মতে শিশুদের ড্রাগ পয়জনিং ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। এ ব্যাপারে বিশেজ্ঞগণ শিশুদের ওষুধ বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধসমূহ ব্লিস্টার প্যাকে বাজারজাতের পরামর্শ এবং শিশুদের সব ধরনের ওষুধ নাগালের বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
লেখক :চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ