সিসিক নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২২:২৯
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও ১৮ দলের প্রার্থী নগর উন্নয়ন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল হক চৌধুরী। কামরানের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধীদেরকে গুমসহ নানা ইস্যু ও আরিফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যাহত করাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী ইস্যু। দিন যতই গড়াচ্ছে দু’জনের প্রতিযোগিতা যেন আরো তীব্র হচ্ছে। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে দু’জনই জোরালো বক্তব্য রাখছেন। একজন নির্বাচন নির্বিঘ্ন রাখতে সেনা মোতায়েনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন আরেকজন তা নাকচ করে দিচ্ছেন। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গেরও অভিযোগ করেছেন। আবার দু’জন এক সঙ্গে বসে খোশ-মেজাজে গল্প করছেন-এমন ছবি দেখা গেছে।
আগে এতিহ্যবাহী সিলেট পৌরসভা ও পরে দু’বার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এতো বেগ পাননি, বলা হয়ে থাকে জামায়াতসহ ইসলামপন্থি দলগুলো তার সাথে ছিল। ‘‘এবার সে রকম খুব একটা আশা করা যায় না,’’ এরকম মন্তব্য করে অনেকেই বলেছেন ‘‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যুগুলো প্রখর হয়ে উঠছে।” অবশ্য তার ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংকের বিষয়টিও অস্বীকার করা যায় না। অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ৪১ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি, দু’বারের মেয়র কামরানের কাজ-কার্মের মূল্যায়নের পাশাপাশি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলো সামনে চলে এসেছে। হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি নেতা এম.ইলিয়স আলী ‘গুম’ ইস্যুসহ সরকারের বিগত দিনের নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন এই দুই প্রার্থীর ভোটের লড়াই হবে তীব্র।
৭২ সালে একজন ওয়ার্ড কমিশনার থেকে পৌর চেয়ারম্যান এবং পরপর দু’বার মেয়র নির্বাচিত হন কামরান। এতো বছরে তার যত অর্জন হয়েছে, বিপরীতে ব্যর্থতা ও বঞ্চনাও আছে। এ প্রসঙ্গে কামরান নিজেও বলেছেন তার অর্জন শত ভাগ না হলেও সাধ্য মত এই নগরীর উন্নয়ন করেছেন তিনি এবং রাজনৈতিক মতের উর্ধ্বে উঠে সারাজীবন নগরবাসীর সেবা করেছেন। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল এ কাজের শ্ব্বেতপত্র বের করার দাবি করেছেন। ১৪ দল প্রার্থী কামরান নগরীর প্রতিটি ঘরে ঢু-মারছেন আর ধনী-গরীব সবার সাথে কোলাকুলি করে তার আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন। আবার ১৪ দলের শরীকদেরও পক্ষে আনার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ও জেলা জাসদের একাংশের সাথে তার দূরত্ব কমেনি।
এদিকে মহাজোটের অন্যতম শরীক দল সিলেট জাতীয় পার্টি নিরব রয়েছে। মহাজোট সমর্থিত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে এখনো সমর্থন দেয়নি জাতীয় পার্টি। শরিক দল হিসেবে সরকার পরিচালনায় নেই তাদের অংশগ্রহণ। ক্ষমতাসীন দলের প্রতি তারা ক্ষুব্ধ। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে এমন এমন তথ্য পেয়েছেন সাংবাদিকরা।
তারা জানান, মহাজোট সরকারের চার বছর পেরিয়ে গেলেও জোটের কোন সভায়ই তাদের ডাকা হয়নি বলে এক শীর্ষ নেতা জানান। সিসিক নির্বাচনে তারা অবশ্য দলের কেন্দে র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে জাতীয় পার্টির সিলেট মহানগরীর সদস্য সচিব আব্দুল হাই কাইয়ুম বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে ১৪ দল প্রার্থী জোট সরকারে আমলে সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক মহানগর বিএনপির সভাপতি। বিশেষ করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম.সাইফুর রহমানকে ঘিরে তার ব্যাপক পরিচিতি। তার হাত দিয়েই সিলেটে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আর আরিফুল হক এটাকেই পুঁজি করে পরিবর্তন ও নগরীকে মডেল নগরী গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নগরবাসীকে। আরিফ ও কামরান দুই মেয়র প্রার্থীই অষ্ট প্রহর ঘুরছেন নগরীর অলিতে-গলিতে। তাদের স্ত্রীরাও মাঠে নেমেছেন। আর এ দু’মেয়র প্রার্থীকেই মানুষ যেমনি দোয়া দিচ্ছে তেমনি নানা প্রশ্ন আর বঞ্চনার কথাও বলছে।
আরিফ-কামরানের খোশগল্প :বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাবেক নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান আরিফুল হক চৌধুরী একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলে নির্বাচনী মাঠ গরম করলেও কিছু সময় খোশগল্পও করতে দেখা যায় তাদেরকে। সোমবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট সিটি করপোরে-শনের রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ দৃশ্য দেখা যায়।
আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা: ইতোমধ্যে বিএনপি নেতা ডা: সাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেটে আরিফুলের পক্ষে মাঠে নেমে ইলিয়াস আলী গুমসহ সরকারের বিভিন্ন সমালোচনা তুলে ধরছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ ীয় নেতা,সাবেক মন্ত্রী, দলের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমদকে মাঠে নিয়ে আসার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে সূত্র জানায়।
১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের প্রতীক আনারস। অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত নাগরিক জোটের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতীক টেলিভিশন পেয়েছেন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন তালা প্রতীক নিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তেই যেন আছেন। তার প্রচারণা চোখে পড়ে না।