তারেক ফেরারি আসামি, ব্রিটেনকে জানানো হয়েছে
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২২:৩০
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, তারেক রহমান একজন ফেরারি আসামি। মামলায় হাজিরা দেননি। ইন্টারপোল ও যুক্তরাজ্য সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান আর রাজনীতি করবেন না- এমন অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে বিদেশে যান। তিনি কি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন? দায়িত্ব ত্যাগ করেই তিনি বিদেশে যান। তাই তিনি আর রাজনৈতিক ব্যক্তি নন।
ডা. দীপু মনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেক মামলার আসামি তিনি। হাজিরা দেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল, মহাপরিচালক (বহিঃপ্রচার) শামীম আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারত দ্বারা প্রভাবিত- যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সন্ত্রাসদমন রিপোর্টে এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি একান্তভাবে জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার চেতনা, প্রত্যয় আর স্বপ্নকে মূল ভিত্তি করে বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে। কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার, মানব পাচার, সন্ত্রাস দমন ইস্যুতে রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় তৈরি এসব রিপোর্টে বাংলাদেশের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটিই থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল ও কার্যকর। বর্তমান আমলে এ সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে সমীক্ষা ইস্যুতে বলেন, তাদের প্রদত্ত ব্যাখ্যা ঠিক। একটি বেসরকারি উদ্যোগে সমীক্ষা এটি। ফলাফল ইতিবাচক হলে সরকারকে জানাবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে মানবিক কারণে চাল পাঠাবার জন্য অনুমতি চেয়েছে ভারত। বাংলাদেশের নৌ ও সড়ক পথ আমরা শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি দেবো। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাপক ও বিস্তৃত। আদান প্রদানের সম্পর্ক নয়। এ সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের ফলে গার্মেন্টস রফতানি বেড়েছে। ত্রিপুরার পালাটানায় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হলে আমরা ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করতে পারব। দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। এজন্য ভারত নয়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। ডা. দীপু মনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আশাকরি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাব। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তা দিচ্ছে।