চিকিত্সককে কারাবন্দীর প্রতিবাদ
চট্টগ্রামে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটে
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২২:৩১
একজন চিকিত্সককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সকল বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক গতকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। তারা নিজস্ব চেম্বার ও প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীদের চিকিত্সা প্রদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে গতকাল অসংখ্য রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের চেম্বারে চিকিত্সার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল এই ধর্মঘটের আওতামুক্ত। বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মজিবুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘চিকিত্সকদের হয়রানি বন্ধ ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক রোগী দেখবেন না। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।’ অপরদিকে চট্টগ্রামের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক মন্তব্য করেন, চিকিত্সক ভুল করেছেন কি না তা আদালত বলতে পারবে না।
জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাপরোস্কোপিক, কলোরেক্টাল ও জেনারেল সার্জন ডা. মো. সুরমান আলী ও ল্যানসেট ডায়?াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্স সেন্টারের চিকিত্সক ডা. জাকির হোসেন গত বছরের ৩০ মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলামের মলদ্বারে অস্ত্রোপচারকালে সেখানে একটি সার্জিক্যাল সূঁচ রেখে সেলাই করে দেন। এরপর আমিনুলের শরীরে প্রচণ্ড প্রদাহ ও ব্যথা অনুভব হলে তিনি চিকিত্সকদের শরণাপন্ন হন। চিকিত্সকরা তার মলদ্বারে আরো দুই দফা অস্ত্রোপচার করার ‘ভান’ করেন বলে আমিনুল অভিযোগ করেন। শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি ঘটলে একমাস পর তিনি কলকাতার এ্যাপোলো হাসপাতালে গেলে সেখানকার চিকিত্সকরা তার মলদ্বারে রেখে দেয়া সূঁচটি অস্ত্রোপচার করে বের করে। এতে ক্ষুব্ধ আমিনুল দুই চিকিত্সকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৪ মার্চ দুই চিকিত্সক আদালত থেকে জামিন নেন। গত ৩০ মে পাঁচলাইশ থানার এসআই রুহুল আমিন মামলাটির তদন্তের পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সোমবার দুই চিকিত্সকের মধ্যে ডা. মো. সুরমান আলী মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, সুরমান আলীকে ঘটনার পর চমেক কর্তৃপক্ষ তাকে সাসপেন্ড করে।