টিভি মুখ

অভিনয়ের উজ্জ্বলতায়...

সুন্দর অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ রোবেনা রেজা জুঁই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা ভিন্নধর্মী চরিত্রে। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে জুঁই অভিনীত পাঁচটি ধারাবাহিক নাটক। প্রতিভাময়ী এই অভিনেত্রীর অভিনয়ের জীবনের গল্প শোনাচ্ছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতি ছোটবেলা থেকেই অপরিসীম দুর্বলতা ছিল তার। তাই তো গানের সাথে সখ্যতা গড়েছিলেন। স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতেন। আর ভালো গায়কীর জন্য প্রশংসাও পেতেন সবার কাছে। পড়াশোনার মাঝেই সংসারজীবন শুরু করেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমে সাথে। মাস্টার্স শেষ করলেও সন্তানকে সময় দিয়ে গিয়ে চাকরি বা অন্য ক্যারিয়ারে নিজেকে আর জড়াতে পারেননি। গানটাও যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে। অনেকটা শখের বশেই অভিনয় শুরু করেন। প্রথম দিকে একখণ্ডের নাটকে কাজ করে অভিনয়ের সাথে হূদ্যতা তৈরি করেন। পরবর্তীতে অভিনয়ের মাঝেই নিজেকে সঁপে দিয়েছেন দক্ষ অভিনেত্রী হওয়ার আশায়। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে জুঁই অভিনীত পাঁচটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—বাংলাভিশনে মাসুদ সেজানের পরিচালনায় ‘রেড সিগন্যাল’ ও আল হাজেনের পরিচালনায় ‘দুই টাকার বাহাদুরি’, মারুফ মিঠুর পরিচালনায় এসএটিভিতে ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’, আলম আশরাফের পরিচালনায় এশিয়ান টিভিতে ‘হিডেন ফোল্ডার’ ও সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় এটিএনবাংলায় ‘কবুলিয়তনামা’। এরমধ্যে বাংলাভিশনে বর্তমানে প্রচারিত এক ঘণ্টার মেগা ধারাবাহিক ‘রেড সিগন্যাল’-এ জুঁইয়ের সাবলীল অভিনয় সবার নজর কেড়েছে। এই নাটক নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, ‘এখানে আমি একজন অফিস সহকারী কাম রিসিপশনিস্ট। আমার নাম জেসমিন। সত্ মানুষ খোঁজার প্রজেক্টে কাজ করছি। সব মিলিয়ে নাটকে আমার চরিত্রটি অনেক মজার। সেই সাথে এখানে অভিনয়ের জায়গাও আছে। সেই দিক বিবেচনা করে এ চরিত্র অভিনয় করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ এই নাটকে অভিনয় করে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই ধারাবাহিকের অডিয়েন্স রেসপন্স অনেক ভালো।’ বর্তমানে জুঁই আসছে ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নাটকগুলো হলো—মাহমুদুল হাসান টিপুর পরিচালনায় ‘একটি অর্থবহ চিরকুটের গল্প’, রাজীব রসূলের পরিচালনায় ‘প্রেমের নাম বেদনা’, নান্টুর পরিচালনায় ‘একটি ঈদের জন্য’ প্রভৃতি। নাটকের চরিত্র নিয়ে নিজের ভাবনার কথা প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, ‘প্রত্যেকটি চরিত্রের মূল্যায়ন আছে। বাস্তব জুঁইয়ের চেয়ে বাইরের চরিত্র করতে ভালো লাগে। এতে অনেক কিছু শেখা যায়। নিজেকে ভাঙা যায়। কোনো একটি চরিত্র করতে গেলে চিন্তা করি। যেসব চরিত্রে নিজেকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়, সেসব চরিত্রে অভিনয় করতে মজা পাই।’ কোনো একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর আপনার স্বপ্নটা কেমন থাকে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্ক্রিপ্ট পড়ার পর আমার চিন্তা থাকে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা। চরিত্র কতটা ফোকাস করতে হবে, ম্যাসেজটা কী থাকবে—তা নিয়ে চিন্তা করি। তবে গল্পের ওপর নির্ভর করে চরিত্র কেমন ভাবে করব।’ অভিনয়ের বিষয়ে আপনি মোশাররফ করিমের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পান? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের বিষয়ে ও সব সময় আমাকে উত্সাহ দেয়। যা আমার খুব ভালো লাগে। তার সহযোগিতাতেই তো আজ অভিনয় করতে পারছি।’ নিজেকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন আপনি?—এমন প্রশ্নের জবাবে জুঁই বলেন, ‘নিজেকে আমি খুব ভালো একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। এমন কিছু চরিত্র করতে চাই, যাতে অমর হয়ে থাকতে পারি। সে জন্য অভিনয়টা ভালোমতো শিখতে হবে আমাকে। এখন সে চেষ্টাই করছি।’