স্যাটেলাইট
স্বরসতীচন্দ্রের কুমুদ
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ১৮:৫৩
স্টার প্লাস চ্যানেলের ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলেও খুব কম সময়ের মধ্যে, বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালের অন্যতম আকর্ষণ কুমুদ চরিত্রে রূপদানদারী অভিনেত্রী জেনিফার উইংগেট। তাকে নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
সঞ্জয় লীলা বানসালি বড় পর্দার মানুষ। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’, ‘দেবদাস’, ‘ব্ল্যাক’, ‘সাওয়ারিয়া’, ‘গুজারিশ’-এর মতো সফল এবং আলোচিত হিন্দি সিনেমার কৃতী এই নির্মাতা যখন ছোট পর্দার জন্য সিরিয়াল নির্মাণে হাত দেন তখন থেকেই তার নতুন কাজ সম্পর্কে সবাই কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। সঞ্জয় লীলা বানসালি তার প্রথম টিভি সিরিয়ালের জন্য বিখ্যাত গুজরাটি উপন্যাস ‘স্বরস্বতীচন্দ্র’কে বেছে নেন। গুজরাটি এই ক্লাসিক উপন্যাস অবলম্বনে ষাটের দশকে হিন্দি সিনেমা তৈরি হয়েছিল। সেই উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ১৮ শতকে। পুরোনো দিনের উপন্যাসটিকে বর্তমানে সময়ের পটভূমিতে সাজানো হয়েছে। এ কাজটি সঞ্জয় লীলা বানসালি সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন। ছোট পর্দার জন্য হলেও ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালে সিনেমাটিক আমেজ খুব সহজেই চোখে পড়ে। ধনাঢ্য প্রভাবশালী অভিজাত পরিবারের সন্তান স্বরসতীচন্দ্রের সঙ্গে গ্রামের এক মধ্যবিত্ত ঘরের সুন্দরী মেয়ে কুমুদের প্রেম-ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, ব্যক্তিত্ব এবং শ্রেণীসংঘাত ইত্যাদি নিয়ে নাটকীয়তা চমত্কারভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এ সিরিয়ালে। পাত্রপাত্রীদের পারফর্মেন্স, অভিনয়ে পরিপক্কতা, সাজ পোশাক, সেট ডিজাইন, ক্যামেরার নৈপূণ্যময় কাজ, আবহসংগীত লোকেশন, নির্বাচনে বৈচিত্র্য ইত্যাদি দর্শকদের খুব সহজেই আবিষ্কার করেছে। সিরিয়ালটি দেখতে বসে অনেকেরই সঞ্জয় লীলা বানসালির দুই সাড়া জাগানো সিনেমা ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’-এর কথা মনে পড়ে যায়। সব মিলিয়ে ‘স্বরসতীচন্দ্র’ দর্শকদের জন্য ভিন্নরকম স্বাদের সম্ভার বয়ে এনেছে। এখানে মূল দুটি চরিত্র স্বরসতীচন্দ্র এবং তার প্রেমিকা কুমুদ চরিত্রে রূপদান করছেন যথাক্রমে গৌতম রোডে ও জেনিফার উইংগেট। গৌতম অভিনয়ে নতুন বলা চলে। এর আগে টিভি পর্দায় বেশকিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় দেখা গেছে তাকে। শুরুতে তাকে নায়ক চরিত্রটিতে কিছুটা আড়ষ্ট হলেও ক্রমেই গৌতম তা কাটিয়ে উঠেছেন। এখন তাকে অনেকটা সপ্রতিভ মনে হচ্ছে এই সিরিয়ালে। ‘কাসৌটি জিন্দেগি কি’ সিরিয়ালে মূল নারী চরিত্র প্রেরণার মেয়ে স্নেহা সেজে অনেক আগেই ঘরে ঘরে পরিচিত লাভ করেন তিনি। এরপর ‘দিল মিল গ্যায়া’ সিরিয়ালে তরুণী চিকিত্সক হূদিমা চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে বিপুল সংখ্যক দর্শকের হূদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন জেনিফার। মাঝখানে অনেকদিন তাকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সিরিয়ালে দেখা যায়নি। ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালে কুমুদ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হওয়াটা তার কপাল খুলে দিয়েছে নতুন করে। এখানে জেনিফারকে দুর্দান্ত অভিনয় শৈলী দেখাতে হচ্ছে। কুমুদ চরিত্রের অন্তর্গত নানা বিষয় যথাযথভাবে ফুটিয়ে মোকাবেলা করে জয়ী হয়েছেন। দর্শক-সমালোচক এখন তার কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন। ‘কুমুদ চরিত্রটি আমার ক্যারিয়ারে একটি টানিং পয়েন্ট সন্দেহ নেই, আমি আগে যে কয়েকটি সিরিয়ালে যে ধরনের রোল করেছি কুসুত তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সঞ্জয় লীলা বানসালির মতো একজন বিখ্যাত নির্মাতা আমাকে তার সিরিয়ালে নায়িকা চরিত্রে কাস্ট করার পর আমি সিরিয়াসলি নিয়েছিলাম পুরো ব্যাপারটিকে। এই সিরিয়ালে সিনেমাটিক আমেজে কাজ করছি আমি। দর্শক আবারও আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন দেখে আমি ভীষণ অনুপ্রেরণা লাভ করছি।
একই সঙ্গে আমি অভিভূতও বটে’, উচ্ছসিত হয়ে বলেন জেনিফার উইংগেট। আগামী পর্বগুলোতে দর্শক আরও জমজমাট নাটক উপভোগ করবেন ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালে। জেনিফার ও কুমুদ চরিত্রে মনপ্রাণ উজাড় করে অভিনয় করছেন যা তাকে আগামীতে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলবে সবশ্রেণীর দর্শকের কাছে—তেমন প্রত্যাশা সবার।
স্টার প্লাস চ্যানেলে সপ্তাহ সোম থেকে শুক্রবার রাত ৮টায় ‘স্বরসতীচন্দ্র’ সিরিয়ালটি দেখানো হয়।