গল্প নয় সত্যি

ঈর্ষণীয় অভিজ্ঞতা!

নিজের শখের গাড়িখানা ভালো রাখার জন্য আর ভালোভাবে সেটি চালানোর জন্য অনেকেই হয়তো ভালো একজন চালকের সন্ধান করেন। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন বা বয়সে একটু প্রবীণ চালকদের প্রতিই অধিকাংশ গাড়ি মালিকের পক্ষপাতিত্ব থাকে। কিন্তু তাই বলে আপনার চালকের বয়স যদি হয় প্রাইভেট কারের আবিষ্কারের সময়সীমার চাইতেও বেশি কিংবা তার গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা যদি হয় ৮৮ বছরেরও বেশি তাহলে নিশ্চয়ই বিস্ময়ে অনেকের চোয়াল ঝুলে যাবে। তবে গল্পের মতো শোনালেও বব এডওয়ার্ডস নামে এমন এক চালকের কথা সত্যিকার অর্থেই সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্বের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে। আর বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ চালক হিসেবে গণমাধ্যমের স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়া এই মানুষটির বসবাস হলো নিউজিল্যান্ডে। এ বছর তার বয়স ১০৫ স্পর্শ করলেও এখনও দিব্যিই রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন বব। হাতে গোনা দু’একটি ভুল-ত্রুটি বাদ দিলে অন্য অনেক চালকের চাইতে তার ড্রাইভিং ক্যারিয়ারও অনেক বেশি ঈর্ষণীয়। অন্য অনেক তরুণ চালকেরও জন্যও যেসব ভুল রোজকার গাড়ি চালানোর সঙ্গী সেখানে বব তার জীবদ্দশায় মাত্র একবার অ্যাকসিডেন্ট করেছেন। আর গতিসীমা অমান্য করার জন্য তাকে জরিমানার মুখোমুখো হতে হয়েছে একবার। ব্যস এটুকুই। বাকি ৮৮ বছরের গাড়ি চালনার ইতিহাসে গাড়ির যত বিবর্তন বব একা দেখেছেন সেই বিবর্তনের ধাক্কাও তাকে ছিটকে ফেলতে পারেনি এই পেশা থেকে। এমনকি এই একশ পেরোনো বয়সেও চালকদের জন্য নির্ধারিত চোখ বা ফিট থাকার পরীক্ষায় রীতিমতো পাস করেই চালক হিসেবে তার ক্যারিয়ার অটুট রেখেছেন বব। মজার বিষয় হলো, মূলত ইংল্যান্ডে জন্ম হলেও এক সময় কাজের টানেই নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন বব। আর যে সময়ে তার জন্ম সে সময়ে হেনরি ফোর্ডের বানানো প্রথম গাড়ি মডেল টি পর্যন্ত রাস্তায় নামেনি। আর চাচার কাছে থাকা যে ফরাসি গাড়িতে বব তার চালক জীবনের হাতেখড়ি নিয়েছিলেন সেটিতে এমনকি স্টিয়ারিং হুইলও ছিল না। বরং এক ধরনের লিভার ঘুরিয়েই চালাতে হতো সে আমলের গাড়ি। বব জানিয়েছেন, ড্রাইভিং নামের এই বিষয়টাকে তিনি এখনও বেশ উপভোগ করেন এবং এটি বাদ দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও তার নেই। আর তাই এখনও সপ্তাহে তিন দিন নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় ববের দেখা মেলে তার মিতসুবিশি গাড়ি নিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রসারি শপে যাবার পথে।