দমনাভিযানের জন্য ক্ষমা চাইলেন উপপ্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:১১
তুরস্কে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশী দমনাভিযানের জন্য বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী বুলেন্ত এরিক। বিশেষ করে চলমান সহিংসতায় দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ায় এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি বর্তমান বিক্ষোভ অবসানের জন্য সকলের কাছে আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোগান উত্তর আফ্রিকা সফরে থাকায় সরকারের দায়িত্ব নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও গতকাল ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ এসময় বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে।
এরিক বলেন, ইস্তাম্বুলের গেইজি পার্ক রক্ষার্থে বিক্ষোভকারীদের সামপ্রতিক আন্দোলনে পুলিশ যে কঠোর আচরণ করেছে তা ঠিক হয়নি। পরিবেশবাদীদের প্রথম শান্তিপূর্ণ সমাবেশে রাষ্ট্র পুলিশ পাঠিয়ে ভুল করেছে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যে দাবিতে বিক্ষোভ করেছে তা ছিল ‘ন্যায় ও আইনসঙ্গত’। তাই তিনি এজন্য তুর্কি নাগরিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তিনি এও বলেন যে, যারা জনগণের সম্পদ ধ্বংস করেছে এবং রাস্তায় জনগণের চলাফেরার স্বাধীনতা বিনষ্ট করেছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার প্রয়োজনে তিনি ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে প্রস্তুত আছেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে নমনীয় থাকলেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এরদোগান। আন্দোলনকারীদের ‘অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। দেশে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ-সহিংসতার জন্য সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দায়ী করে এর নিন্দা জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও গতকাল পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ইস্তাম্বুল ও রাজধানী আঙ্কারায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও জল কামান ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা বাধা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ এসময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে এ বিক্ষোভের সমর্থনে ‘কেস্ক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন’ এর ডাকা দুইদিনের ধর্মঘটের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। কোথাও কোথাও এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।