শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:১৪
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত
শান্তি-শৃঙ্খলা সভ্য সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। শৃঙ্খলাবোধের অভাবে ব্যক্তি থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। বাংলাদেশের বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একদল এটি বাতিল করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, আর অন্য দল এটির মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসতে চায়। এর মাঝখানে নির্যাতিত হচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষ। একদল হরতাল দিয়ে এক প্রান্তে অবস্থান নিয়ে গাড়িতে আগুন, ইটের আঘাতে ট্রাকচালকের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে, অপরদিকে অবস্থান নিয়ে আর একদল এদেশের নিরীহ মানুষের উপর গুলি করছে। দুই পক্ষের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ এদের উভয়েরই শত্রু। অথচ এই সাধারণ মানুষই হলো দেশের উন্নয়নের হাতিয়ার। তাই দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এর অন্যতম উপায় হলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা হলো ক্ষমতা হস্তান্তরের ঠিকানা। এতে সরকারি, বিরোধী এবং দেশের মানুষ উপকৃত হবে। অন্যথায় উভয়েই জনগণের আস্থা হারাবে। দেশে মানুষের অপমৃত্যু হতেই থাকবে, আর আমাদের উপর এর দায়ভার বাড়তেই থাকবে। এভাবে এক সময় দেশ কঠিন সমস্যায় পতিত হবে, যা আমরা এখন থিউরিটিক্যালি বুঝতে পারলেও পরে প্রাকটিক্যালি বুঝতে পারবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু তাতে আপসোস ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
মো. রুবেল হোসেন
পশুপালন অনুষদ (১ম বর্ষ),
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য আমাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে
‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত’ কথাটি গভীরভাবে চিন্তা করলে আমাদের বতর্মান সময়ের দিকে তাকাতে হবে। বর্তমানে যে সময় অতিবাহিত হচ্ছে সেই সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা চিন্তা করার অর্থ হলো গভীর সমুদ্র হেঁটে পার হওয়ার মতো। কেননা দেশে বড় যে দুইটি রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। যদি তাদের এই সম্পর্ক পরিবর্তন করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করা যায় তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা চিন্তা করা যায়। কেননা এদেশের রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য হলো নির্বাচনে পরাজয়ের পর তারা মন্তব্য করে যে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়নি। তারপর শুরু হয় অশান্তির মহাঘূর্ণিঝড়। আমাদের এই সমস্ত মনমানসিকতা ত্যাগ করা উচিত। যদি আমরা ত্যাগ করতে পারি তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সচ্ছল হবে। রাজনৈতিক হানাহানির কারণে দেশের শিল্প-কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। দেশে হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীসহ সকলের ক্ষতি হয়। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংসের পথে ধাবিত হয়। তাই আমরা চাই স্বচ্ছভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আর রাজনৈতিক হানাহানির কারণে কোন মানুষের জীবনকে যেন বলি না দিতে হয়। এদেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরই হবে দেশের উন্নয়নের একমাত্র উপায়। পরিশেষে আমাদের প্রত্যাশা, যেন অশান্তির কালোছায়া আমাদের জীবন চলার পথে না এসে সোনালী সূর্যের আলোয় ভরে উঠুক আমাদের জীবন।
মো. আবদুর রহমান সুমন,
বি,এস,এস
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বন্দর, নারায়ণগঞ্জ
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তির নিকট শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটতে পারে
বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। আগামী সংসদ নির্বাচন আর মাত্র ৫ মাস বাকি। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দল আন্দোলন করছে। আন্দোলন ও হরতালের নামে দেশে নৈরাজ্য ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিচার মানি তবে তালগাছ আমার এমন নীতি পরিহার করে সরকারি দল বিরোধী দল যার যার অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব। নতুন সংঘাত অনিবার্য। দুই নেত্রী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক মঞ্চে বসে আন্দোলন করতে পারলেন। তাহলে বর্তমানে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কেন আলোচনায় বসে একমত হতে পারবেন না? রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্য করা হয় তাহলে জনগণকে জিম্মি করে অধিকার আদায়ের কেন চেষ্টা করছেন? ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন না কেন? নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় একমত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার (নীরব)
এল,এল,বি,অনার্স তৃতীয় সেমিস্টার
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অর্থনীতির পথে বড় বাধা
সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। আমাদের অর্থনীতি বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর। আমাদের বাজেট হচ্ছে ঘাটতি বাজেট। বাজেটের বেশি অংশ যোগান দিয়ে থাকে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা পরনির্ভরশীল হলেও রাজনীতিতে স্বনির্ভর। পান থেকে চুন খসলেই হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে বসে থাকি। হরতাল, রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা অশুভ তা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা একটাবারও চিন্তা করেন না। তারা তাদের দলীয় স্বার্থটাকে বড় করে দেখেন। এটা কি আমাদের জন্য আমাদের অর্থনীতির জন্য শুভ? আমাদের দেশে বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বে সংহিসতা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ে আসে ব্যাপক ধস। বিদেশি দাতারা মুখ ফিরিয়ে নেন। সামপ্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিনিয়োগ শূন্য অর্থাত্ মানুষজন তাদের পুঁজি ভাঙ্গিয়ে খাচ্ছে। সঞ্চয়ও বর্তমান সময়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে গেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
মোফাজ্জল হোসেন মায়া
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ