অর্থাভাবে অনিশ্চিত ৬ মেধাবীর সাফল্য

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা\ একই স্কুলের ওরা ৬ সহপাঠী বন্ধু। উপজেলার পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৬ বন্ধুই কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে নিজের চেষ্টা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এই ভাল ফলাফল করেছে। এর মধ্যে সোহেল রানার পিতা রইচ উদ্দিন ওই স্কুলের পিয়ন। সোহেল রানা দিনমজুরি করে লেখাপড়া করেছে। এ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী বাবর আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান। দিনমজুর পিতা ময়নুল হকের ছেলে জমিদার হোসাইন নিজেও তাঁত শ্রমিক। এই স্কুলের আরেক ছাত্র মিরু আহমেদের পিতা সাহেব আলী মুদি দোকানী। মিরু দিনমজুরি করে লেখাপড়া করেছে। দিনমজুর মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মতিন ও সহকারি শিক্ষক মনসুর হেলালের ছেলে শফিকুল ইসলাম নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে সফলতা অর্জন করেছে। অর্থাভাবে তাদের এই সাফল্য ক্রমশই ফিকে হয়ে আসছে। অথচ তাদের কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা সেনা কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তাদের এ স্বপ্ন বাস্তব হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। বিত্তবান কেউ এদের পাশে দাঁড়ালে স্বপ্ন সফল হতে পারে। সোহেল রানা \ পুঠিয়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের এ সন্তান। পিতার আয়ের অর্থে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়লে দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে। সে ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। খুপরির মত একটি ঘরে দুই ভাই, দুই বোন নিয়ে বাবা মায়ের সাথে গাদাগাদি করে কোন রকমে বসবাস করে আসছে। সোহেল রানার ইচ্ছা বড় হয়ে সেনা কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু অর্থাভাবে তার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়াই দুরূহ হয়ে পড়েছে। হাফিজুর রহমান \ পিতা বাবর আলী নৈশ প্রহরীর কাজ করে ছেলেকে কোন গৃহশিক্ষক দিতে পারেননি। তবুও অদম্য ইচ্ছা ও মনোবল হাফিজুর রহমানকে আটকে রাখতে পারেনি। একটি মাত্র জীর্ণঘরে দুই ভাই এক বোন নিয়ে তাদের বসবাস। সে লেখাপড়া করে একজন ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু দারিদ্র্য তার বড় বাধা। জমিদার হোসাইন \ জমিদার হোসাইন বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা ময়নুল হক একজন ক্ষুদ্র তাঁত ব্যবসায়ী। হতদরিদ্র পরিবারের এ সন্তান পিতার আয়ের অর্থে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়লে নিজে তাঁত শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়েছে। চার ভাই তিন বোন নিয়ে একটি মাত্র জীর্ণঘরে কোনমতে বসবাস। জমিদার হোসাইন রাতে তাঁতের ঘরে বসে কুপিবাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করত। সে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। মিরু আহমেদ \ বাবা সাহেব আলী একজন মুদি দোকানী। মাতা হাছনা খাতুন একজন গৃহিণী। অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়েছে। একটি মাত্র জীর্ণঘরে তিন ভাই এক বোন নিয়ে কোন মতে বসবাস। সে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তার ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আব্দুল মমিন \ বাবা মহির উদ্দিন একজন দিনমজুর। মাতা গোলবাহার বেগম গৃহিণী। অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে লেখাপড়া চালিয়েছে। একটি মাত্র জীর্ণঘরে তাদের বসবাস। সে একজন ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। শফিকুল ইসলাম \ বাবা মনসুর হেলাল একজন সহকারি শিক্ষক হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছেলেকে গৃহশিক্ষক দিতে পারেননি। নিজেই যতটুকু সময় পেয়েছে ছেলের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করেছেন। সে লেখাপড়া করে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তার একাদশ শ্রেণিতেই ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।