আবুল কাসেম ভূইঁয়া
আমাদের দেশে দেশি আমের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের বিদেশি আমের চাষ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু উত্সাহী ব্যক্তি তাদের নিজস্ব বাগানে বিদেশি জাতের আমের চাষ করে সফল হয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ব্যাপকভিত্তিতে বিদেশি আমের চাষ হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আমের বাগানগুলোতে ভারত, পাকিস্তান, বার্মা, থাইল্যান্ডে, ভিয়েতনাম এবং শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের আমের চারা রোপণ করে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৫/১৬ জাতের বিদেশি আম চাষ হচ্ছে। এসব বিদেশি আমের মধ্যে সম্প্রতি ভিয়েতনামের জনপ্রিয় আম রেডকিং নতুন চমক সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকা লামায় আম মেরিডিয়ান এগ্রো তাদের লামার পাহাড়ের বাগানের মধ্যে ভিয়েতনামের জনপ্রিয় রেডকিং আম পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফল হয়। কর্তৃপক্ষ জানায় ২০১৪-১৫ সালের দিকে ভিয়েতনাম থেকে রেডকিং আমের চারা এনে রোপণ করার দুই বছর পর থেকে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে আমের মৌসুমে এসব আম গাছে প্রচুর ফলন আসছে। রেডকিং আমের আরেকটি নাম হবে মহাসেন। এই আমের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো— দেখতে লাল রঙের সাথে বর্ণিল রঙের হয়ে থাকে। কাঁচা অবস্থায় লাল রঙের থাকে। পাকলে লাল এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করে। রেডকিং আম খেতে বেশ সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। এর চামড়া খুব পাতলা হয়ে থাকে। এই আমে কোনো আঁশ থাকে না। আঁটি খুব পাতলা। মার্চ এপ্রিল মাসে আমের মুকুল আসে। জুন মাসে ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি আমের ওজন হয় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। প্রতিটি আম গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি আম পাওয়া যায়। আমাদের দেশের মাটি এবং জলবায়ু রেডকিং জাতের আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে এই আম গাছের সুষ্ঠু পরিচর্যা ছাড়া ভালো ফলন আশা করা যায় না।