কামরান—আরিফুলের কথার লড়াই চলছেই

সিলেটে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে এখন চলছে বাকযুদ্ধ। প্রতিদিনই গণসংযোগ ও মতবিনিময়কালে এই দুই প্রার্থী একজন অন্যজনের দেয়া বক্তব্যের কড়া জবাব দিচ্ছেন। কামরান বলছেন, গত ৫ বছরে সিলেট নগরীতে প্রায় ৫শ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। জবাবে আরিফুল বলছেন, গত ৫ বছরে নগরীতে উল্লেখ করার মতো কোন উন্নয়ন হয়নি। হয়েছে লুটপাট। আর উন্নয়ন সব হয়েছে বিএনপির আমলে। আরিফুলের প্রতি ইঙ্গিত করে কামরান বলেছেন, তাদের দুঃশাসনের কথা মানুষ আজো ভুলতে পারেনি, কোনদিন ভুলতে পারবে না। আর আরিফুল বলছেন, ক্ষমতায় থাকাকালে নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নগরবাসীর জন্য কাজ করেছেন। তার এই কাজের মূল্যায়নের ভার এখন তিনি নগরবাসীর উপরই ছেড়ে দিয়েছেন। আরিফুল আরো বলছেন, আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ছিনতাই করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজের ও তার দলের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে নগরীতে নির্মাণাধীন একটি পানি শোধনাগারের কথা তিনি উল্লেখ করেন। যা নাকি বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে অনুমোদিত হয় এবং কিছু অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়। এর জবাবে কামরান বলেছেন, উল্লেখিত প্রকল্পটি ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার অনুমোদন করেছে। এভাবেই দুই প্রার্থীর মধ্যে এখন কথার লড়াই চরমে। ভোটের লড়াইয়ে কে জেতেন আর কে হারেন তা দেখার জন্য আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। মিথ্যাচার বন্ধ করুনঃ কামরান মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গত মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময়কালে বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কেউ কেউ মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের ধারণা নেই যে- মানুষ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা কথা বলে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা কিংবা সহানুভূতি আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি মিথ্যাচার বন্ধ করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নগরীর কানিশাইল, ভার্থখলা, চন্দনটোলাসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে কামরান আরো বলেন- কেউ কেউ দাবি করছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নাধীন পানি শোধনাগার প্রকল্প নাকি চার দলীয় জোট সরকারের সময় গ্রহণ করা হয়েছিল। আমি অবাক হয়ে যাই তাদের এসব অসংলগ্ন দাবি দেখে। কারণ বর্তমানে পানি শোধনাগার স্থাপনের যে কাজ চলছে সেই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল ২০০৯ সালে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি অনুমোদিত হয়। এখন প্রশ্ন হলো ২০০৯ সালে কি চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় না থেকে তারা কিভাবে পানির প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ বরাদ্দ দিলেন। কামরান বলেন, অপপ্রচার না চালিয়ে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন স্বীকার করে নিন। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবোঃ আরিফুল মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, নগরবাসী যদি আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন তাহলে আমি দল মতের উর্ধ্বে উঠে নগর পরিচালনা করব। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। নগরভবনকে পূর্ণাঙ্গ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করব। আরিফুল হক নগরীর হাউজিং এস্টেট, কোনাপাড়া, মজুমদারী, আম্বরখানা সরকারি কলোনী, ফরিদবাগ দত্তপাড়া, সুবিদবাজারস্থ লাভলী রোড এলাকায় গণসংযোগ ও মনিপুরী পাড়ায় পথসভায় বক্তব্য দানকালে আরো বলেন, আমি নগরবাসীকে বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট বাগিয়ে নেবার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমি কর্মের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে ক্ষুদ্র পরিসরে নগরবাসীর প্রতি আমার আন্তরিকতা ও কর্মের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছি। তাই এবার আমার কাজের মূল্যায়নের ভার নগরবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম। বিবিসি সংলাপে দুই প্রাথীর বিতর্ক মঙ্গলবার রাতে বিবিসি সংলাপেও সিলেট নগরীর উন্নয়ন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। যা উপস্থিত স্রোতা ও টেলিভিশন দর্শকদের নিকট বেশ উপভোগ হয়। সংলাপে অপর মেয়র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমনও অংশ নিয়েছিলেন। সংলাপ অনুষ্ঠানে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানি, রাস্তাঘাট, জমে থাকা বর্জ্য, ফুটপাতসহ নানা সমস্যা দূরীকরণে নিজস্ব পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন তারা। একই সাথে বিশেষ করে সাবেক মেয়র কামরান অতীতে কিভাবে তিনি এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন তারও বিশদ বর্ণনা দেন। অন্যদিকে বিগত পাঁচ বছরে কোন উন্নয়ন হয়নি, নির্বাচনের আগে কিছু রাস্তার উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন ১৮ দলের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। আর ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির আশ্রয়ে থেকে আমি মধ্যরাতে উন্নয়নের নামে কারো বাসা-বাড়ি ভাঙিনি। এর বাইরে নগরীতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন নিয়েও তাদের মধ্যে বিতর্ক হয়। দুই মেয়র প্রার্থীই নির্বাচিত হলে সিলেটকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে নগরীর জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে বিবিসির আয়োজনে এই বিশেষ নির্বাচনী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় একঘণ্টা ধরে চলে সংলাপ।