রাজশাহীতে জনতার মুখোমুখি মেয়র প্রার্থীরা

গত মঙ্গলবার সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত মেয়র প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও হাবিবুর রহমান উপস্থিত হয়ে নির্বাচিত হলে স্ব-স্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিকাল ৪টায় নগরীর কাদিরগঞ্জের সাফাওয়াং কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ৬টার আগ পর্যন্ত চলে। সহ-আয়োজক বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালালউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরেক সহ-আয়োজক লোক মোর্চা রাজশাহী জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য মোজাম্মেল হক। সমন্বয়ক ছিলেন ড. মো. হেদায়েতুল ইসলাম আরিফ। প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত ১৩ দফার অঙ্গীকারনামা দর্শকদের পড়ে শোনান দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সরকার শরীফুল ইসলাম। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পরই সুজনের সাবেক সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে অনুষ্ঠান উত্সর্গ করা হয়। প্রথমে তিনজন ভোটারকে আসন্ন রাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে দেয়ার পর তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ১০ মিনিটের বক্তৃতায় নির্বাচিত হলে কীভাবে রাসিককে গড়ে তুলবেন তা সংক্ষেপে বর্ণনার সুযোগ দেয়া হয়। বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ৬ জুন থেকে রাজশাহী মহানগরীতে পাইপলাইনে আসা গ্যাস সংযোগ উদ্বোধনের সুখবর দিয়ে বলেন, এটি ছিল তার বিগত নির্বাচনের এক নম্বর প্রতিশ্রুতি। বিগত বিএনপি আমলে এটি একনেকে পাস হলেও পরবর্তীতে সেটি হিমাগারে চলে যায়। বিগত প্রায় পৌনে ৫ বছরে রাজশাহীতে প্রায় সাড়ে সাতশ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং তার ঘোষিত ভিশন-২০১৮ অনুযায়ী চলমান প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখতে তাকে আবারো তালা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান লিটন। বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার ঘোষিত ২০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে বলেন, তরুণদের জন্য আইসিটি পার্ক, কৃষিভিত্তিক শিল্প, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করবেন। এছাড়া রাজশাহীতে শিক্ষিত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে নিয়ে একযোগে কাজ করার জন্য তিনি আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। অপর মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান তার বক্তৃতায় নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলবেন বলে অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, নিজে দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি চশমা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। বক্তৃতার পর তিন মেয়র প্রার্থী সরাসরি ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিন মেয়র প্রার্থীই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত, কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনে জনগণের রায় মাথা পেতে নেয়া ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ সুজন সম্পাদিত ১৩ দফা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আগে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দলীয় প্রভাব ও কালো টাকার প্রভাবের কারণে বিগত নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শতকরা ২৫ ভাগ প্রার্থী কমেছে।