পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, তিন জনের যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৩৪
বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর অ্যাডভোকেট কালিদাস বড়াল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আদেশ দিয়েছে আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে অপর তিন আসামির। মামলার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন অন্য নয় জন। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ এস.এম. সোলায়মান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আট জনের মধ্যে সাত জন পলাতক রয়েছেন।
ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে চিতলমারী থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আলমগীর সিদ্দিকী ও নাছির সিদ্দিকী, একই উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সাঈদুল ইসলাম ওরফে সাঈদ ফকির, ঘোলা গ্রামের সাইফুর রহমান ওরফে বাবলু কাজী এবং কলাতলা গ্রামের স্বপন। এদের মধ্যে আলমগীর সিদ্দিকী ছাড়া অন্যরা পলাতক।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত তিন জন হলেন শওকত সিদ্দিকী,বাবলু মোল্লা ও মানিক। এরা সবাই পলাতক ।
তবে দীর্ঘ এক যুগ পর স্বামী হত্যার বিচার পেয়ে খুশী হতে পারেননি নিহত কালিদাস বড়ালের স্ত্রী ও এই মামলার বাদী হ্যাপি বড়াল। খুশী হননি নিহতের বড় ভাই ও বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক বড়ালও। রায় ঘোষণার পর বাগেরহাট আদালত চত্বরে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আরো কঠোর এবং আরও বেশি আসামির শাস্তি প্রত্যাশা ছিলো তাদের। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবার কথা জানিয়েছেন।
একই ভাবে রায়ে সন্তুষ্ট হননি আসামি পক্ষের আইনজীবীরাও। আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী মল্লিক আবু জাফর বলেন, তারাও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। বাদী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ড. এ. কে. আজাদ ফিরোজ টিপু পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা না করে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০০০ সালের ২০ আগস্ট সকালে বাগেরহাট শহরের সাধনা মোড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাগেরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কালিদাস বড়ালকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় তখন বাগেরহাটসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহার, আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বড়াল হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ আগস্ট নিহতের স্ত্রী হ্যাপি বড়াল পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ঐ বছরের ৩১ অক্টোবর ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
গত প্রায় তেরো বছরে বাগেরহাট ও খুলনার বিভিন্ন আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। এই সময়ের মধ্যে অছিকার রহমান নামে অপর এক আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ও গণপিটুনিতে আব্দুর রশিদ ওরফে তাপু ওরফে মামুন, জুয়েল শিকদার ওরফে রাসেল, কবির ডাকুয়া ও তুষার মোল¬্যা নামে চার আসামি নিহত হয়।