পাকিস্তানে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন নওয়াজ শরীফ
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৩৬
পাকিস্তানে ইতিহাস গড়লেন নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) প্রধান নওয়াজ শরীফ তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। আর এর মাধ্যমে পাকিস্তানের গণতন্ত্র একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। গতকালই তিনি শপথ নিয়েছেন। খবর দ্য ডনের।
পাকিস্তানের ১৮তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর নওয়াজ শরীফ বলেছেন, পাকিস্তানের এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ধ্বংসের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তার দলকে ভোট দিয়েছে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই হবে তার মূল কাজ। নওয়াজ শরীফ জাতীয় পরিষদে ২৪৪ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী মাখদুম আমিন ফাহিম ৪২ ভোট এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রার্থী পেয়েছেন ৩১ ভোট। সন্ধ্যায় নওয়াজ শরীফকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। আর এর মাধ্যমে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ শেষ হলো।
নওয়াজ শরীফ বলেন, পাকিস্তানে এখন ক্ষমতার নয়, নীতির রাজনীতি শুরু হলো। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন নওয়াজ। তিনি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নওয়াজ শরীফ। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন তিনি। তিনি ড্রোন হামলা বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানান।
১৯৮০ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন নওয়াজ শরীফ। এরপর পাঞ্জাব প্রদেশের অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নওয়াজ। ১৯৯৩ সালে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর ১৯৯৭ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন নওয়াজ। এরপর সাত বছর স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে ২০০৭ সালে দেশে ফেরেন তিনি। গত ১১ মে’র নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয় তার দল।