অস্ট্রেলিয়ার এগিয়ে থাকার ‘ভিন্ন’ কারণ

বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের আশাবাদী হওয়ার অনেক কারণই আছে। সম্প্রতিই তারা সিরিজ জিতেছে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটোই আবার বিরুদ্ধ কন্ডিশনে। জিতেছে সর্বশেষ আটটি ওয়ানডের সবগুলোই। তার ওপর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছেন দুই শীর্ষ ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।

সব মিলিয়ে আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার অজিরাই। অধিনায়ক ফিঞ্চ নিজেদের এগিয়েই রাখছেন। তবে, তার চোখে এগিয়ে থাকার কারণটা ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এগিয়ে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা।

গেলবার যে অস্ট্রেলিয়ান দলটি বিশ্বকাপ জিতেছিল তার ছয়জন আছেন এবারের দলেও। তাদের একজন হলেন স্বয়ং অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা একটা বড় অভিজ্ঞতা। আমরা জানি বিশ্বকাপ জিততে হলে কি কি করতে হবে, কি কি বিষয়ে দেখভাল করতে হবে। কারণ, এই টুর্নামেন্টটা বেশ শক্ত একটা প্রতিযোগিতা। এখানে জিততে হলে অবশ্যই আপনার দলকে সবার সেরা হতে হবে। একই সঙ্গে কোনো সামান্য ভুল করারও সুযোগ পাওয়া যাবে না। আমাদের দলে এমন ছয়জন আছেন যারা আগে বিশ্বকাপ জিতেছেন, তাদের পুরোটা পথ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা আছে।’

আগামী এক জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশন শুরু হবে অজিদের। ম্যাচটি হবে ব্রিস্টলে। দারুণ একটি বিশ্বকাপ আসরের অপেক্ষায় আছেন অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে কি হবে না হবে সেই নিয়ে আমরা অনেক আলাপ করেছি। এখন এই সব কিছু শেষ হতে চলেছে। আমরা বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে আছি। সবাই একত্র হয়ে আমরা নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে প্রস্তুত। দলের সবাই এই মুহূর্তে বেশ তেতে আছে। বিশ্বকাপে ওরা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলতে চায়। আশা করি বিশ্বকাপটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য।’

বিশ্বকাপের আগে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ ফেরায় বেশ চাঙ্গা আছে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার টপ-অর্ডারটা এখন বেশ যুত্সই। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে থাকবেন ডেভিড ওয়ার্নার। তিনে খেলবেন স্টিভেন স্মিথ। চারে সম্ভবত খেলবেন উসমান খাজা। যদিও, এখনো ব্যাটিং অর্ডার চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে টপ অর্ডারে খাজার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ধোয়াশা আছে।

ফিঞ্চ বলেন, ‘আমি মনে করি ব্যাটিং অর্ডারে সবাইকেই সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা অবস্থা তাতে এখন অবধি আমরা ব্যাটিং অর্ডারের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আসলে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পৌঁছে দুই-একটা ম্যাচ খেলার পর আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হবে।’

বিশ্বকাপ দিয়েই এক বছরেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন ওয়ার্নার ও স্মিথ। এই দুজনকে স্বাগত জানিয়ে ফিঞ্চ বলেন, ‘সবাই মাঠে ও মাঠের বাইরে পরিশ্রম করছে। কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা আমাদের জন্য বেশ উপভোগ্য একটা সময়। স্মিথ ও ওয়ার্নারকে দলের সবাই স্বাগত জানিয়েছে। ওদের যে অভিজ্ঞতা আছে, সেটা আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ওরা এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দুজন খেলোয়াড়। এই অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আমাদের অনেকটুকু এগিয়ে দেবে।’